ব্রেকিং

x

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮:৩৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষক হাবিবুর হত্যার রহস্য উদঘাটন

সংসারের সুখের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষক হাবিবুর রহমান (৪০)। এজন্য ঢাকায় প্রাক-প্রশিক্ষণও নেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে নামেন। সেখানে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে মাত্র ১২ হাজার টাকার জন্য তাকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ছিলেন একজন সাধারণ কৃষক। সৌদি আরবে যেতে একই গ্রামের বশির মিয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে নাসিরনগর থেকে ঢাকায় যান হাবিবুর। ঢাকায় এজেন্সির প্রশিক্ষণ শেষে পরদিন ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ‘কালনী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছান তিনি।


আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনির হোসেন বলেন, প্ল্যাটফর্মের একটি চায়ের দোকানে আগে থেকেই আন্তঃজেলা মলম পার্টির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। আড্ডার একপর্যায়ে তারা হাবিবুরকে আমের জুস পান করতে দেন। জুস পান করার পরই তিনি চেতনাহীন হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে পকেটের টাকা ও মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

এরপর হাবিবুরের মোবাইলে থাকা ফুফুর নম্বরে ফোন করে জানানো হয়, তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ঢাকার মহাখালীর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসার জন্য ১২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। পরিবারের সদস্যরা হাবিবুরের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। টাকা আদায় করতে না পেরে গভীর রাতে মাধবপুরের সোনাই নদীতে অচেতন অবস্থায় হাবিবুরকে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ৭ সেপ্টেম্বর নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের ‘সততা ইটভাটা’র সামনে তিতাস নদী থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী মাজেদা আক্তার মর্গে গিয়ে মরদেহটি তার নিখোঁজ স্বামী হাবিবুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

ঘটনার চার দিন পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে নিহতের স্ত্রী নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর হাবিবুরের বন্ধ থাকা সিম কার্ডটি নেত্রকোনা জেলায় একটি নতুন হ্যান্ডসেটে চালু হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে নেত্রকোনা থেকে মো. সাগর মিয়াকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে হাবিবুরের ব্যবহৃত সিম কার্ডটি উদ্ধার করা হয়।

সাগরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহাবাজপুর থেকে নিরঞ্জন দাসকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ থেকে চক্রের মূলহোতা মো. মোতালেব আলী ও তার প্রধান সহযোগী বেলাল মীরকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতার মো. মোতালেব আলী প্রায় তিন দশক ধরে দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে যাত্রীদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে সর্বস্ব লুটে আসছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অজ্ঞান পার্টি ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন জেলায় অভিযান চালিয়ে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!