মামলা থাকা অবস্থায় রাধানগর এলাকার একটি জায়গা কিনে নেন তিনি। এর পরই মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন ওই জায়গার কিছু অংশের দাবিদার এক পরিবারকে। বছরের পর বছর ধরে একটি জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করে রেখেছেন অ্যাডভোকেট ইয়াছীন খান। রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে ওই মার্কেটটি ভাঙা পড়ে।
রেলওয়ে জায়গাটি নিজেদের দাবি করে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ নিয়ে মামলাও চলমান। এরই মধ্যে জায়গাটিতে একটি স্কুলের সাইনবোর্ড বসিয়ে দেন আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল।
গত চার বছরে কাজল ও তাঁর ভাইদের নামে কমপক্ষে ২০টি জায়গার দলিল হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
এর মধ্যে গত বছরের মার্চ নাগাদ হওয়া ১৩টি দলিলের সব ধরনের তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।
তাকজিল খলিফা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন তিনবারের মেয়র। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাকজিল খলিফা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে তাকজিল খলিফা ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া আক্তারের নামে কী কী সম্পত্তি আছে, তা জানতে আখাউড়া উপজেলা সাবরেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৪ জুলাই দুদকের কুমিল্লার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাফী মো. নাজমুস সা’দাৎ স্বাক্ষরিত ওই পত্রে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই দুজনের নামে ২০ বছরের মধ্যে জমি, দোকান, প্লট, ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় কিংবা চুক্তি হয়েছে কি না সেটির তথ্য ও দলিলাদি পাঠানোর জন্য বলা হয়।
তবে ওই সময়ে সাবেক আইনমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে এসব কাজ করা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরত থাকতে বাধ্য করেন তাকজিল। ক্ষমতার পালাবদলের পর দুদকের ওই কার্যক্রমের বিষয়টি আবার সামনে চলে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছে।
তাকজিল খলিফা সম্প্রতি রাধানগরের একটি ‘ভেজাল’ সম্পত্তিতে নজর দেন। তিনিসহ আরো তিনজন মিলে প্রায় ৩০ শতকের ওই জায়গাটি কিনতে তিন কোটি টাকার চুক্তি করেন। ৯ মাস আগে চুক্তি হলেও তিনি জায়গাটি কিনছিলেন না। বরং জায়গায় ভেজালের কথা উল্লেখ করে এখন আরো ৬০ লাখ টাকা কম দেবেন বলে জানিয়ে দেন। ওই জায়গাটির কিছু অংশ নিয়ে এক পরিবারের সঙ্গে বিক্রেতাদের মামলা-মোকদ্দমা চলছে। আওয়ামী লীগ নেতা তাকজিল খলিফা কাজল ওই পরিবারের এক সদস্যকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার বিপরীতে কিছু টাকা দেবেন বলে জানান।
আখাউড়া উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সাইমন ইমতিয়াজ বলেন, ‘কী পরিমাণ দলিল হয়েছে ওনাদের নামে সে বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো যাবে।’
দুদকের একটি সূত্র জানায়, তাকজিল খলিফা কাজল সম্পদবিবরণী জমা দিয়েছেন। এখন সেই সম্পদবিবরণী বাস্তবের সঙ্গে ঠিক আছে কি না সেটি মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর মেলানো হবে।
সাবেক মেয়র তাকজিল খলিফা পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com