ব্রেকিং

x

ভারতে আটকা পড়া যাত্রী, বন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও লেভারদের চরম দুর্ভোগ

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসা বানিজ্য সপ্তাহখানেক বন্ধ থাকবে, কয়েকদিন বন্ধ থাকবে যাত্রীপারাপার

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০২৪ | ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসা বানিজ্য সপ্তাহখানেক বন্ধ থাকবে, কয়েকদিন বন্ধ থাকবে যাত্রীপারাপার

আজ শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) পর্যন্ত বন্যা কবলিত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে টানা তিন ধরে সব ধরনের আমদানী রফতানী বানিজ্য ও বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ি, লেভার ও কর্মচারী । আগরতলায় বাংলাদেশী নাগরিকরা আটকা পড়ে দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। পানি কমতে শুরু করলেও বন্দর সড়কের ধসে পড়া বিকল্প ব্রীজ মেরামত করে বানিজ্য চালু  হতে সপ্তাহখানেক সময় লাগতে পারে আর ইমিগ্রেশনের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে কয়েকদিনের মধ্যে যাত্রী পারাপার শুরু হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ জানায়, পানি কমতে শুরু করলেও আগামী দুইদিনের আগে পানি শুকানোর সম্ভবনা নেই। তাদের ঠিকাদার প্রস্তুত আছে। পানি কমলেই তিনদিনের মধ্যে আখাউ[ড়া-আগরতলা সড়কের আব্দুল্লাহপুর বরাবর জাজির খালে ধসে পড়া বিকল্প ব্রীজ চালু করতে পারবে। সড়ক চালু হতে সবমিলিয়ে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।


এদিকে আখাউড়া ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মো: খায়রুল আলম জানায়, যাত্রী পারাপার শুরু হতে সময় লাগবে। অফিস থেকে এখনো পানি সরে যায়নি। আগামীকাল পানি সরে গেলে বৈদ্যুতিক ত্রুটি মেরামত করতে হবে, মেরামত করতে হবে যান্ত্রিক ত্রুটি । সব মেরামত শেষে যাত্রী পারাপার চালু করতে হবে তবে কখন যাত্রী পারাপার শুরু হবে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

আখাউড়া স্থলবন্দরের মাছ রফতানী কারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মো: ফারুক মিয়া জানায়, ভারতের পাহাড়ী ঢলের পানিতে গত বুধবার আখাউড়া স্থলবন্দর তলিয়ে যায় ও বন্দর সড়কের বিকল্প ব্রীজ ধসে আমদানী রফতানী বানিজ্য ও বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে পড়ে। কবে নাগাদ চালু হবে কেউ বলতে পারছেনা। বন্দরে ব্যবসা বন্ধ থাকায় শত শত ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ি, লেভার ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে তারা। প্রতিদিন এই বন্দর দিয়ে মাছসহ কোটি টাকার মালামাল আমদানী রফতানী হয় বলেও তিনি জানান।

এদিকে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায়, ভারতের আগরতলায় আটকা পড়া শেখ জিয়াউল ইসলাম সবুজ (২৫) ফোনে জানায়, কিছুদিন আগে ক্যান্সার রোগী মাকে নিয়ে ভারতের মুম্বাই টাটা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ফিরে এসে আগরতলায় আটকা পড়েন। সঙ্গে টাকাও ফুরিয়ে গেছে। এই অবস্থায় তারা চারজন হোটেল ভাড়া করে বাধ্য হয়ে থাকছেন আগরতলায়।

উল্লেখ্য যে, বুধবার ভারতীয় পাহাড়ী ঢলের পানির তোরে আখাউড়া স্থলবন্দরসহ আখাউড়া উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। আখাউড়া-আগরতলা সড়কের স্থলবন্দর সংলগ্ন আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বিকল্প একটি ব্রীজ ধসে পড়ে। বন্দরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বন্দরের ব্যবসা বানিজ্য ও বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী পারাপারসহ সবকিছু অচল হয়ে পড়ে। এই বন্যায় কোটি কোটি টাকার বাড়িঘর, মাছের প্রজেক্ট, ফসলি জমি, গাছপালা, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রশাসন বন্যার্তদেরকে বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় আশ্রয় দেন। গর্ভবতী এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় পানির তোরে। ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় প্রশাসনের পাশাপাশি দেশের সেনাবাহিনী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। আজ শুক্রবার পানি কমতে শুরু করেছে।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!