ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যুবলীগ নেতার বাড়িতে আগুনে পুড়িয়ে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উম্মোচন হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার শারমিন ওরফে হরলুজা বেগমের বড় মেয়ে রুমা আক্তার বাদী হয়ে যুবলীগ নেতার ছেলে আসামী ফারহান রনির বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দিন মঙ্গলবার ভোড়ে আসামী ফারহান রনি ডেকে নিয়ে হরলুজা বেগমকে ছুড়ি দিয়ে গলা কেটে মরদেহ আগুনে পুড়ে হত্যা করে। তবে আসামীর অসংলগ্ন কথায় হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারন উৎঘাটন হয়নি।
পুলিশ জানায়,মঙ্গলবার সকাল ৬টায় প্রতিদিনের মত হরলুজা বেগমের স্বামী নুরুল ইসলাম কূলা বিক্রির জন্য ঘর থেকে বের হয়ে যায়। তার স্বামী বের হওয়ার ২০ মিনিট পর আসামী ফারহান রনি তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে হরলুজাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে উপজেলার রহিমপুর গ্রামে তাদের বাড়ির পরিত্যক্ত একটি ভাঙ্গা টিনের ঘরে এনে ছুরি দিয়ে হরলুজাকে গলা কেটে হত্যা করে। হরলুজার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে বিচ্ছিন্ন মাথাটি ৩০০ গজ দূরে একটি জমিতে পুতে ফেলে। মাথাবিহীন বাকী অংশ কম্বল দিয়ে পেচিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে এই ভাঙ্গা ঘরের ভিতরে আগুন জ্বলছে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখতে পান নিহত হরলুজার হাত, পা পোড়া মাথা বিহীন দেহ আগুনে পুড়ছে। ততক্ষনে পুড়ে তার দেহ আঙ্গার হয়ে গেছে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ খুনি ফারহান রনি (২৭)কে স্থানীয় গাজীর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এই লোমহর্ষক হত্যার কাহিনী। উদ্ধার করা হয় দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা মাথা। উদ্ধার হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারিত ছুড়ি। পরে হরলুজার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর মর্গে পাঠায়। গ্রেফতার কৃত আসামী ফারহান রনিকে আজ বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে আসামী ফারহান রনি অসংলগ্ন কথা বলছে। একবার বলছে তার নিকট মেয়ে বিয়ে দিতে হরলুজা তাবিজ করেছে। আবার বলছে হরলুজার এক মেয়েকে সে বিয়ে করতে চেয়েছিল। সঠিক তথ্য দেয়নি আসামী।
এদিকে অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে হরলুজার বড় মেয়ে ফারহানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলেও তিনি ধারনা করছেন চুরি করা হাস রান্নার জন্য তার মাকে রনি ডেকে নিয়ে যায়, তার মা হয়তো এতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ফারহান।
স্থানীয়রা জানায়, খুনি ফারহান রনি আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মো: শাহনেওয়াজ ভুইয়া পুত্র। রহিমপুর গ্রামে তার বাড়ি। রনির দাদার আমল থেকে হরলুজা তাদের জমিতে ঘর তুলে স্বামী ও কন্যাদের নিয়ে বসবাস করতো। রনিকে কুলে পিঠে করে মানুষ করেছেন হরলুজা। এই অবস্থায় হরলুজাকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি স্থানীয়রা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। সবাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।
এ ব্যাপারে আখাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘাতক ফারহান একেক সময় একেক কথা বলছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com