ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরলাপাং গ্রামের একটি সড়ক নির্মাণের সময় অহিদ মিয়া বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। এর পর গ্রামের মুসলেম মিয়া কৃষকদের জমিতে ভাড়ায় হালচাষ দেওয়ার জন্য একটি ট্রাক্টর কিনে আনেন। এতে দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়ে যায়।
ট্রাক্টর ভাড়া ব্যবসায় একক আধিপত্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অহিদ মিয়া ও তার ভাই উবায়দুল মিয়া ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ট্রাক্টর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অহিদ মিয়া ও মুসলেম মিয়ার পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জেরে শনিবার রাতে অহিদ মিয়া নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার মির্জারচর গ্রাম থেকে ভাড়াটে লোকজন এনে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চরলাপাং গ্রামে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে চরলাপাং গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে গুরুতর আহত ফুল মিয়া (৬০) ও একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)-কে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com