মাকে ডেকে কাছে এনেই অঝোরে কাঁদলেন সোলায়মান মিয়া। সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলবেন জেনে কাছে টেনে বসালেন মাকে। ৬৪ বছর বয়সি ছেলেকে কাছে পেয়ে আদর করলেন মা। বৃদ্ধ মাকেও জড়িয়ে ধরলেন ছেলে। মা-ছেলের চোখে জল। এ যেন আনন্দাশ্রু। ১৬ বছর পর মা-ছেলের দেখা। জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ছেলে। এরই মধ্যে হারিয়েছেন বাবাসহ বেশ কয়েকজন স্বজনকে।
বিডিআার বিদ্রোহের ঘটনায় ১৬ বছর কারাভোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সোলেমান মিয়া। গত বৃহস্পতিবার তিনি বাড়ি ফিরেন। স্বজনরা এখন তাকে দেখতে আসছেন। গ্রামের মানুষ আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করেছেন। সোলেমান মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তিনি জানান, বিদ্রোহের সময় স্বেচ্ছায় পিলখানা থেকে সরে যান। পরে সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরেন। এরপর তিনিসহ অনেক জোয়ানকে বিনা কারণে জেলে নেওয়া হয়।
সরকার যেন প্রাপ্যটা বুঝিয়ে দেন সেই দাবি করে সোলেমান মিয়া বলেন, ‘চাকরি শেষে পেনশনের টাকায় কিছু করবো ভেবেছিলাম। এরই মধ্যে কপালে দুর্ভোগ নেমে আসে। এখন চলার মত অবস্থা নাই। ধারদেনা করে দুই ছেলেকে প্রবাসে পাঠানো হলেও তারা ভালো নেই।’
সোলায়মানের স্ত্রী কোহিনূর বেগম বলেন, ‘স্বামী জেলে যাওয়ার পর কি ধরণের কষ্ট করেছি বলে বুঝানো যাবে না। খেয়ে বাঁচতে হাত পাততে হয়েছে। ধার-দেনা করে দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছি। তারাও ভালো নেই। এখনো অনেকে টাকা পাওনা।’
ভাই ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিলো ভাই বিপথগামী হয়নি। সেটা প্রমাণিত হলো। আমরা খুশি।’
মা জুলেখা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী শুধু সোলায়মানের পথ চেয়ে থাকতো। রাস্তা দেখিয়ে বলতো এই দিক দিয়েই আসবে। এখন স্বামী বেঁচে নেই। থাকলে অনেক খুশি হতেন।’
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com