সড়ক কিনারার এক থেকে পাঁচ ফুট ভেতরে খুঁটি। অর্থাৎ যানবাহন চলাচলের পথ আঁকড়ে আছে এসব খুঁটি। যেন সড়কের ‘দম’ আটকে ধরে রাখা। এতে বিঘ্ন হচ্ছে যান চলাচলে। নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। এ নিয়ে পৌরসভা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে রয়েছে রশি টানাটানি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্র এমন ধরণের অন্তত ৫০টি খুটি দেখতে পাওয়া যায়। সড়ক বাজার, রাধানগর, আখাউড়া-খড়মপুর সড়কে এমন খুঁটি বেশি চোখে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্সের সামনে একটি খুঁটি অন্তত সড়কের কিনারা থেকে ভিতরে পাঁচ ফুট ভিতরে দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এসব খুটি দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টেনেছে। এসব খুঁটি বসানোর সময় সড়ক ঘেঁষে বসানো হয়। কিন্তু কিছু সড়ক প্রশস্থ করার পর খুটিগুলো আগের জায়গাতেই থেকে যায়। যে কারণে সড়ক প্রশস্থ করা হলেও সেটা কাজে আসছে না। বরং খুঁটিগুলো সড়কের ভেতরে চলে আসায় যান চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
সড়ক বাজারের ব্যবসায়ি মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আখাউড়ার প্রাণকেন্দ্র হলো সড়ক বাজার। যানজট নিরসনে এখানকার সড়ক প্রশস্থ করা হলেও পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির কারণে পুরো সড়ক কাজে লাগছে না। এছাড়া এসব খুটি যান চলাচলের জন্যও বেশ ঝু্কপিূর্ণ। আমি মনে করি খুঁটিগুলো সরিয়ে নিলে যানজট ও ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।’
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন আখাউড়া শাখার সভাপতি ও সাবেক ব্যবসায়ি মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘পৌর এলাকার প্রধান প্রধান সড়কের উপর এ ধরণের খুঁটি চোখে পড়ে। যানবাহন চলাচলে এসব খুঁটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কের উপর খুঁটি থাকায় পুরো সড়ক কাজেও লাগছে না। কর্তৃপক্ষ দ্রুত যেন এসব খ্ুঁটি সরিয়ে নেন সেই দাবি জানাচ্ছি।
আখাউড়া পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. ফয়ছাল আহমেদ বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এসব খুঁটির কারণে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। আমরা তাদেরকে বলার পরও এসব খুঁটি সরাচ্ছে না। কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে এসব সরানোর কথা বললে পল্লী বিদ্যুৎ তাদের নির্ধারিত হারে যে টাকা দাবি করে সেটা অবাস্তব চাওয়া। যেহেতু তারা সড়কের মাঝে খু্টি বসিয়েছে সেহেতু তাদেরই দায়িত্ব এসব সরিয়ে নেওয়া।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাশেদুল হাসান মাসুদ বলেন, ‘খুঁটি সরাতে নিয়ম মানতে হয়। নিয়ম হলো কেউ খুঁটি সরাতে আবেদন করলে এটির একটি ইস্টিমেট দেওয়া হবে। সে অনুযায়ি পরিশোধ হলে আমরা সরিয়ে নিবো। এলজিইডি ড্রেন করার সময় খুৃটি পড়লে আমাদের কাছে আবেদন করে। সে অনুযায়ি খুব দ্রুত আমরা ব্যবস্থা নেই। কিন্তু পৌরসভা থেকে আমাদের কাছে কোনো আবেদন আসেনি। আবেদন এলে নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com