ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল তাঁর ব্যবহৃত পিস্তলটি জমা দেননি। ৩ সেপ্টেম্বর অস্ত্র জমা দেওয়ার শেষদিন পর্যন্ত সরকার যে সময় বেধে দিয়েছিলো ওই সময় নাগাদ সেটি জমা দেওয়া হয়নি বলে জেলা প্রশাসনের একটি বিশ্বস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ অবস্থায় মো. তাকজিল খলিফা কাজলের বিরুদ্ধে অস্ত্রের বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুতই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হতে পারেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতাও শুরু হয়েছে। ১০ বছর আগের একটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে সেটি এখনো নথিভুক্ত হয়নি। আরো একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত বিষয়েও তার বিরুদ্ধে দুদকে যে অভিযোগ সেটির কার্যক্রমে তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় গত তিন-চারদিন যাবত মো. তাকজিল খলিফা এলাকার ঘনিষ্টজনদের সঙ্গে কম যোগাযোগ করছেন। অনেকে যোগাযোগ করেও পাচ্ছেন না। তিনি পুরোনো গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার কোড্ডা থেকে সটকে পড়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়। তবে সূত্রগুলো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় সেগুলো বাতিল করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন সরকার। এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সমপর্ণযোগ্য ৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৬৩টি জমা পড়ে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, সট গান ও দু’নালা বন্দুক।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট মেয়রের পৌর এলাকার রাধানগরের বাড়ির সামনে আন্দোলনকারিদের মিছিল এলে ছাদ থেকে ঢিল ছোড়া, ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। এ সময় তাকজিল খলিফা ফাঁকা গুলি ছুড়েন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এর পরই বাড়িতে দ্রুত আক্রমণ হলে তাকজিল খলিফা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা অনেকে কিছুক্ষণ পর বিষয়টি বুঝতে পেরে তারাও ওই বাড়ি থেকে সরে যান। কিছু কর্মী আটকা পড়লে তারা আন্দোলনকারিদের সঙ্গে মিশে প্রাণ বাঁচান। এরই মধ্যে মেয়রের বাড়িতে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। পরে লুটপাট চালিয়ে ঘরের মালামালসহ অনেক টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে মেয়র লুকিয়ে তার পুরোনো গ্রামের বাড়িতে চলে গেলে সঙ্গে পিস্তল ছিলো না বলে একটি সূত্র জানায়। যে কারণে পিস্তটি লুট হয়েছে কি-না সেটিও আলোচনা আছে।
তাকজিল খলিফা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্টজন। সেই সুবাদে তিনি আখাউড়াতে সম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। তার ইশারাতেই আখাউড়াতে সবকিছু করতে হতো। তৃতীয়বার মেয়র হওয়ার পর তিনি পিস্তল ব্যবহার শুরু করেন। শুরুর দিকে তিনি প্রকাশ্যে কোমরে রেখে ঘুরাফেরা করতে, যা আইনসিদ্ধ নয়। কয়েকমাস এভাবে দৃশ্যমান দেখার পর অবশ্য তিনি কোমরে রাখলেও সেভাবে কারো চোখে পড়তো না।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘আমরা সমর্পণযোগ্য ৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে ৬০টি নির্ধারিত সময়ে জমা পেয়েছি। বাকি যে তিনজন দেননি তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ি এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com