বাংলাদেশী সন্দেহে ভারতের ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মারধর করে তারিয়ে দিচ্ছে। দলে দলে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকরা ফিরে আসছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েক দিনে অন্তত ৪ হাজার শ্রমিক ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর নিকট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা চেয়ে ফোন করলেও কাজ হয়নি। পরিচয়পত্র দেখিয়েও থাকতে পারছে না। মঙ্গলবার ভারতের হিন্দুস্থান টাইমসের বাংলা সংস্করণে এই খবর প্রকাশ হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে দলে দলে শ্রমিকরা ওড়িশা থেকে ফিরে আসছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক বাংলায় ফিরেছেন। মঙ্গলবারও প্রায় ২০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক বাংলায় ফিরেছে শতাব্দী এক্সপ্রেসে ট্রেনে। হাওড়া স্টেশনে নামার পরেই তারা ওড়িশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
খবরে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতেও। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসছে। এই অবস্থায় ইতিমধ্যেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী কাছে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা চেয়ে ফোনে আর্জি জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, তারপরে বাঙালি শ্রমিকদের উপর অত্যাচার থামছে না। এই অবস্থায় প্রাণভয়ে দলে দলে রাজ্যে ফিরে আসছেন শ্রমিকরা। বাংলায় ফিরে আসার পরেই ওড়িশার মানুষ এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উপড়ে দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের দাবী, বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের ধরে ধরে মারধর করা হচ্ছে। এমনকী তারা পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক বললেও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড দেখালেও তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয় সেখানকার পুলিশও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমন অবস্থায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বাংলার শ্রমিকরা। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ফেরিওয়ালারা। অনেকে আছেন যারা কয়েক দশক ধরে ওড়িশায় ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু, তাদেরকে বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করায় এখনও ভয়ে তারা পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন শ্রমিক মারধরের ভিডিও দেখান। একজন বলেন, ‘বাংলাদেশ অস্থির হওয়ার পর থেকেই আমাদের উপরে অত্যাচার শুরু হয়েছে।’
খবরে বলা হয়, শ্রমিকরা দলে দলে বাড়ি ফেরায় হাওড়ায় সিটি পুলিশের তরফে বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওড়িশায় যাতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর এই ধরনের মারধরের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে মোহন চরণের কাছে কয়েকদিন আগেই আর্জি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আর্জির পরেই ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়টি সরকারের তরফে দেখা হবে। তারপরও সেখানে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার অব্যাহত রয়েছে।
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com