ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গৃহবধূ রত্না রাণী দাশকে হত্যার পর মরদেহ গুমের অভিযোগে তাঁর স্বামী সুশীল দাশকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া (কুড়ের পাড়) এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সুশীল দাশ ওই এলাকার মৃত মহরলাল দাশের ছেলে এবং হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর আগে সুশীল দাশের সঙ্গে রত্না রাণী দাশের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কলহ চলছিল। মামলায় রত্নাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাতে মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান রত্না। পরদিন সকালে তাঁকে বাড়িতে না পেয়ে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিষয়টি জানান সুশীল। পরে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও রত্নার সন্ধান পাননি।
এরপর গত ২১ অক্টোবর দুপুরে সুশীলের বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি পুকুর থেকে রত্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর হাত রশি ও কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। মরদেহটি বস্তাবন্দি করে পাথর দিয়ে চাপা দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রত্নার ভাই বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও জেলা পুলিশের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে সুশীল দাশকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাঁকে নাসিরনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com