কসবা ও আখাউড়া উপজেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএনপি নেতা ব্যবসায়ি মো: কবির আহমেদ ভুইয়া বলেছেন, শ্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্দেশে কসবা-আখাউড়ায় বিচার বহির্ভুত ১৮টি হত্যাকান্ড ঘটেছে, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রানী হয়। অর্থের লোভে কসবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ৭টি পাহাড় ধ্বংস করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেসরকারী টেলিভিশন এস এ টিভির রাতের টকশোতে তিনি এ কথা বলেন। টকশোতে তিনি বিগত সরকার আমলে গুম থাকার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ননাও দেন।
উপস্থাপকের এক প্রশ্নে জবাবে মো: কবির আহমেদ ভুইয়া আরো বলেন, আমার এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ক্রসফায়ারের নামে ১৮টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। একই পরিবারের দুই ভাইকে হত্যা করা হয়। গুম করে হত্যা করা হয় আনিসুল হকের প্রতিদ্বন্ধি হেবজুল বারী ও তার গাড়ি চালককে।
তিনি বলেন, অবৈধ অর্থের লোভে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কসবা সীমান্ত এলাকার ৭টি পাহাড় ধ্বংস করে দিয়েছে আনিসুল হক। পুরা এলাকা তছনছ করে দিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রানী করা হয়েছে। আনিসুল হকের নির্দেশে কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদককে হত্যার উদ্দেশ্যে ধরে নেয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় জনগনের চাপে তাকে ছাড়তে বাধ্য হয়।
মো: কবির আহমেদ ভুইয়া বলেন তাকেও গুম করে হত্যার চেষ্ঠা হয়েছে। গত ২৩শে জুলাই ২০২৩ সালে ঢাকার উত্তরা থেকে সাদা পোশাকের একটি বিশেষ বাহিনী তাকে ও তার পিএস আজাদকে জোর করে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। যে গাড়িতে তাকে তুলে নেয়া হয় সেটিও এক ধরণের টর্চা সেল ছিল। বৈদ্যুতিক শক থেকে শুরু করে নির্যাতনের সব যন্ত্রপাতি ছিল গাড়িতে।
সাড়ে ১৬ ঘন্টা গুম থাকার বর্ননায় তিনি আরো বলেন, চোখ বাধা থাকায় গাড়ির অবস্থান জানতে পারিনি, তবে পানি চাইলে মেডিসিন মেশানো পানি দেয়া হত খাওয়ার জন্য, এতে শরীর দুর্বল হয়ে যেত আমার। নামাজ পড়তে দেয়নি, তিনবার গাড়ি থেকে নামানো হয় আমাকে হত্যা করার জন্য। পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভাইয়ের সংবাদ সম্মেলন, দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের চাপে আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন আমি মুক্তি পেয়েছিলাম। দীর্ঘ সাড়ে ১৬ ঘন্টা পর তিনশ ফিটের একটি নির্জন স্থানে আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, গুমের সময় নির্যাতন ও মেডিসিনের বিষ ক্রিয়ায় আমার হার্টে সমস্যা হয়ে যায়। ইতিমধ্যে দুইটি রং পড়তে হয়েছে হার্টে। হাটুর নার্ভ ব্লক হয়ে যায়। ডায়াবেটিকস ও কোলরেস্টরল বেড়ে যায় আমার। পরে সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা করে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছে।
রাজনীতি প্রসঙ্গে নিয়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে করছি। এখান থেকে কিছু পাওয়ার আশা করিনা। গুম হওয়ার পর কসবা-আখাউড়ার মানুষ আমাকে অভাবনীয় ভালবাসা দিয়েছে। তাদের প্রতি আমার নিজের মধ্যে একটি দায়িত্ববোধ জন্মেছে। এলাকার মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে এবং আনিসুল হক যা করেছে তা যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেই চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ নিয়ে যেন এগিয়ে যেতে পারি এবং সবাই মিলেমিশে যাতে মানুষের সেবা করতে পারি সেই প্রত্যাশা করি।
আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
Development by: webnewsdesign.com