ব্রেকিং

x

শিশু উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস ২৪ ঘন্টার সফল অভিযান, শিশু উদ্ধারসহ গ্রেফতার অপহরণকারী

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮:৩৮ অপরাহ্ণ | 756 বার

শিশু উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস ২৪ ঘন্টার সফল অভিযান, শিশু উদ্ধারসহ গ্রেফতার অপহরণকারী
ayesha_furniture

বিশ্বজিৎ পাল বাবু:
চাহিদা মতো ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট না আনায় শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি। অপহরকারির কথামতো জায়গায় শিশুটিকে আনতে যাওয়া ব্যক্তিকেও আটকে ফোন বন্ধ করে রাখা। শিশুটির খোঁজে অচেনা পথ চলতে চলতে গভীর রাতে নির্জনস্থানে চলে যাওয়া ব্যক্তির ফোনও বন্ধ। পুলিশ কিংবা অন্যরা কে কোথায় আছে সেটিও অপরাধী চক্র বলে ফেলা। এভাবে প্রায় ঘন্টা বিশেক। রুদ্ধশ্বাস সময় কাটছে। কারো চোখে ঘুম নেই। ঠিকমতো নাওয়া-খাওয়াও নেই। সারারাত পেরিয়ে পরদিন বিকেলে এলো সফলতা। অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হলো ১৮ মাস বয়সি শিশু। এরপর আরো ঘন্টা চারেক। বেশ কৌশলে গ্রেপ্তার করা হলো, অপহরণকারি ও তার এক সহযোগিকে।


এ যেন ‘পুলিশই জনতা জনতাই পুলিশ’ শ্লোগানের আসল পরিসমাপ্তি। পুলিশ আর জনতার আন্তরিকতা ও সাহসিকতায় উদ্ধার হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রামের শিশু শিফাত মোল্লা। একই সঙ্গে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে মূল অপহরণকারি মাদকাসক্ত ফারুক মিয়া (৪০) ও তার সহযোগি আনোয়ার হোসেন (৩০)। গ্রেপ্তার হওয়া ফারুক নোয়াখালী জেলার চর জব্বার থানারর চর কাজী মোখলেছ এলাকার আব্দুস সহিদের ছেলে ও আনোয়ার হোসেন একই থানা এলাকার থানারহাটের নূর নবীর ছেলে। তবে ফারুক সুধারাম থানার ধর্মপুরে ভাড়া বাসায় থাকে। আখাউড়ার দেবগ্রামেও কয়েকমাস ধরে সে ভাড়া থাকতো। ফারুক মাদকাসক্ত ছিলো বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। শিশু রিফাতকে বাবা-মায়ের কোলে তুলে দেয়া হয়েছে।


আজ বুধবার বিকেলে আখাউড়া থানায় হওয়ার এক সংবাদ সম্মেলনে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয় পুলিশ ও এলাকার লোকজন উদ্ধার কাজে বেশ সহযোগিতা করেছেন।
উদ্ধার অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব নেয়া আখাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. হাবিবুর রহমান ও সঙ্গে থাকা আখাউড়া দেবগ্রামের বাসিন্দা উপজেলা প্রবাসী আওয়ামী লীগ’র উপদেষ্টা রিপন মোল্লা পরে সাংবাদিকদের কাছে শিশু উদ্ধার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শিফাতের পরিবারের লোকজন ও পুলিশ জানায়, গত রবিবার আখাউড়ার দেবগ্রামের ভাড়া বাসা থেকে শিফাতকে নিয়ে যায় একই বাড়ির ভাড়াটিয়া ফারুক ও তার স্ত্রী রূপা বেগম। বিষয়টি আখাউড়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। এরই মধ্যে রিফাতকে ছাড়তে পাঁচ হাজার টাকা চাওয়া হয়। ফারুকের কথা মতো বিকাশের মাধ্যমে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি এলাকার একটি দোকানে ওই টাকা পাঠানো হলে তিনি সেটি না নিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন। সোমবার বিকেলে আখাউড়া থানা পুলিশ, শিফাতের বাবা শিপন মোল্লা, চাচা রিপন মোল্লা সোনাইমুড়িতে যান। ফারুকের পূর্ব পরিচিত মোখলেছ নামে একজনকেও তাদের সঙ্গে নেয়া হয়। মোখলেছকে পাঠালে শিশু শিফাতকে দিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

রিপন মোল্লা জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে পৌঁছে অপহরণকারি কথা মতো একেক সময় একেক জায়গায় মোখলেছকে পাঠানো হয়। রাতে মোখলেছ, শিফাতের বাবা ও আমি আমি একেক দিকে ছুটতে থাকি। পুলিশও নিজেদের মতো করে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে খোঁজাখুজি শুরু করে। আমরা মোট পাঁচটা মোবাইল ফোন সেট কনফারেন্স করে লাইন দিয়ে রাখি যেন যে কোনো মুহুর্তে যেকোনো ধরণের কথা শুনতে পাই। এক পর্যায়ে আমি নির্জনস্থানে চলে যাই ও ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে সবাই আমরা একত্রিত হই। শিফাতের বাবা শিপন মোল্লা অপহরণকারি ফারুককে ফোন করলে জানায় এক হাজার টাকা ও ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট দিলে শিশুটিকে দিয়ে দিবে মোখলেছের কাছে। কথা মতো মোখলেছ সেখানে গেলে টাকা ও ইয়াবা না আনায় গালাগাল শুরু করে। শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও জানানো হয়। এক পর্যায়ে মোখলেছের ফোন বন্ধ করে দেয়। বলা হয় অন্যান্য লোকজন ও পুলিশ কেন সাথে আছে। কিছুক্ষণ পর আমার মোবাইল ফোনে কল করে একটি বিকাশ নম্বর দেয়। ওই ফোন নম্বরটি ইমুতে সেভ করতেই ছবি ভেসে উঠে। ওই ছবির সূত্র ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় বিকাশ নম্বরধারির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ, রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় ওই বিকাশ নম্বরধারিকে প্রথমে আটক করা হয়। এরপর বিকাশ নম্বরধারী আনোয়ারের সঙ্গে ফারুককে যোগাযোগ করিয়ে প্রথমে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

এস.আই হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মোখলেছকে ফারুকের কাছে পাঠানোর পর শিশুটিকে হত্যা করার হুমকি দিলে আমরা ঘাবড়ে যাই। পরে মোখলেছের ফোন বন্ধ হয়ে গেলে চিন্তা আরো বেড়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সেখানকার পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমাদের উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে।’

শিশু সন্তান শিফাতকে সঙ্গে নিয়েই থানায় বসেছিলেন তার বাবা-মা। শিফাত একবার তার মায়ের কোলে আরেকবার বাবা কোলে যাচ্ছিলো। সন্তানকে কাছে পেয়ে তারা খুবই খুশি বলে সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!