ব্রেকিং

x

করোনাকালে ক্রিটিকাল কেয়ারঃ সাত

মায়ের অসুস্থতা নিয়ে পেরেশানি

শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১ | ৯:২৭ অপরাহ্ণ | 816 বার

মায়ের অসুস্থতা নিয়ে পেরেশানি
ডাঃ নিবেদিতা নার্গিস

করোনাকালীন সময়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচাইতে ক্রিটিকাল সময় ছিলো সেপ্টেম্বর মাস। মায়ের অসুস্থতা আর আব্বার মৃত্যুর সেই দিনগুলোর স্মৃতি নিয়েই সেসময়ে রচিত হয়েছে আমার লেখার আদ্যোপান্ত। প্রথম দুই সপ্তাহ আমি কি অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছি তা বর্ণনাতীত। খুব উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলেই সেই সময়ের অনুরনন করছি আজ অবধি। আম্মা পাঁচ বার বমি করার দুদিন পর পেটে ব্যথার কথা বলায় প্রথমে নিজে একজামিন করে এক্সক্লুড করি এপেন্ডিসাইটিস কিনা। এরপর মনে করি গল ব্লাডারে পলিপ থাকার কারণে পেট ব্যথা। সেপ্টেম্বরের ছয় তারিখ শনিবার আম্মার রুটিন ব্লাড টেস্ট করি,আল্ট্রাসাউন্ড করি এ্যাবডোমেনের, ই সি জি করি। ডাঃ বন্ধু আইরিনকে দেখাই। আল্ট্রাসাউন্ড করে সমস্যা ধরা পড়ে।


পরদিন সকালে ফাস্টিং ব্লাড সুগার সহ অন্যান্য টেস্ট করতে দিই। এরপর কর্মস্থল যাওয়ার পথে আম্মাকে বাসায় নামাই। এসময় কোভিড স্যাম্পল কালেক্ট করে টেকনিশিয়ান। আমি এদিনই অফিশিয়াল কাজ সেরে বেলা আড়াইটায় আম্মাকে গাইনি ডাক্তার দেখাই ডেল্টাতে। সেখান থেকে পপুলারে এসে চেস্ট সিটি স্ক্যানের সিরিয়াল নিই আর ইকো করাই। সিটি স্ক্যান শেষ হতে রাত নয়টা বাজে। আম্মা আর আমি রাত দশটায় বাসায় ফিরি। আট তারিখ বারোটায় এম আর আই করাতে নিয়ে আসি। এদিন বাম পা ফুলে যাওয়ায় আম্মা হাটতে পারছিলেন না। হুইল চেয়ারে বসে সারাবেলা ধরে অপেক্ষা। সেদিন একবার আম্মাকে এম আর আই করাতে ডেকে নেয় তিন ঘন্টা পরে। মেশিন অকেজো হয়ে যাওয়ায় আবার ডেকে নেয় দুই ঘন্টা পার করে। ইনভেস্টিগেশন শেষ হতে সন্ধ্যা সাতটা বাজে।


নয় তারিখ অফিস থেকে আগে বের হয়ে যাই এ্যাপোলো হাসপাতালে। ভগ্নিপতি শোভনের এ্যানজিওগ্রাম করা হয়। দশ তারিখ সকালে এক ঘন্টা অফিসে ছিলাম। আজকে আম্মার পায়ের ডপলার স্ক্যান করিয়েছি। উদ্দেশ্য ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস আছে কিনা দেখা। আল্লাহর ইচ্ছায় এই জটিলতা আম্মার হয় নাই। বারো তারিখ রিপোর্ট নিই এম আর আই আর সিটি স্ক্যানের। সব রিপোর্ট নিয়ে ডাঃ সাহানার চেম্বারে যাই। অপারেশন করবো কিনা জানতে চান উনি। অনকেলজিস্টের অপিনিয়ন নিয়েছি কিনা প্রশ্ন করেন। পারুলের সাথে কথা বলে কামাল ভাইয়ের চেম্বারে যাই। উনি সব শুনেছেন বলেন। সার্জারি লাগবে এটা জানান।
পরে কনফিউশন হয়,চেস্ট সি টি স্ক্যান নিয়ে। যেহেতু নডিউল আছে তাই সিটি গাইডেড এফ এন এ সি করা গেলে করতে হবে। রাত্রে ভাইবোনেরা সবাই মিলে পরামর্শ করি এ ব্যাপারে। এরপর তের তারিখ সকালে লিটুর সাথে কথা বলি। লিটু হিস্টোপ্যাথলজি করার জন্য ডি এন্ড সি করা যায় কিনা সেই পরামর্শ দেয়।

ইতিমধ্যে ডিসিশন হয় অন্য কাউকে দেখাবো। ডাঃ জোনাকিকে দেখাই। সিদ্ধান্ত হয় সিটি এ্যাবডোমেন করানোর। পনের তারিখ ছোটভাই মুন্না সহ চলে আসি গ্রীন লাইফ হাসপাতালে। এদিন সিটি এ্যাবডোমেন করার মাঝপথে আমি চলে যাই ডাঃ সাহানার চেম্বারে। অপারেশনের তারিখ দেন উনি।
ইতিমধ্যে আমার মামা অসুস্থ হয়ে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের আই সি ইউতে ভর্তি হন। ষোল তারিখ ডিউটি শেষ করে ম্যানেজমেন্টের সাথে মিটিংয়ের জন্য সময় দিই। বিকেল পাঁচটায় মুন্নাকে সাথে নিয়ে রওনা হই। পথিমধ্যে সংগী হন দিদি আর দুলাভাই। আমরা চলে আসি মামাকে দেখার জন্য হাসপাতালে। উনার অবস্থা আশংকাজনক।

ফেরার পথে সিটি স্ক্যান রিপোর্ট নিতে গ্রীন লাইফ যাই। আজকে সেটা দেয়ার সম্ভাবনা নাই জেনে বাসায় ফিরি। আম্মাকে এ্যাডমিশন করাবো। এরপর সার্জারি। মেজর অপারেশন। এ বি পজিটিভ রক্ত দরকার। এই বয়সে এনেস্থেসিয়ার ঝুকি আছে। ভয় আর শংকা নিয়েই আম্মাকে ভর্তি করাই ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে

লেখক-ডাঃ নিবেদিতা নার্গিস
এফ.সি.পি.এস,এম.ডি
সহযোগী অধ্যাপক এবং হেড অফ ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট
জাপান ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
আইচি নগর, উত্তরা, ঢাকা।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!