ব্রেকিং

x

আজ ভালোবাসা দিবস

ভালোবাসি ভালোবাসি

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯:২৪ এএম | 1626 বার

ভালোবাসি ভালোবাসি

তোমার হাতের মৃদু কড়া-নাড়ার শব্দ শুনবার জন্য/দরোজার সঙ্গে চুম্বকখণ্ডের মতো আমার কর্ণযুগলকে/গেঁথে রেখেছিলাম। কোনো নির্জন মধ্যরাতে তুমি এসে/ডেকে বলবে : ‘এই যে ওঠো, আমি এসেছি, আ-মি।’ কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার এ পঙ্ক্তির মতোই আজ হয়তো কারও কারও জীবনে ধরা দেবে সেই আমি, সেই প্রিয়জন। হৃদয়ের গহিনে যার বসার সে হয়তো কাছে এসে বলবে, ‘এই তো আমি এসেছি।’ বসন্তের উতলা হাওয়ার এমন দিনে মনের মানুষটির পানে একগুচ্ছ গোলাপ তুলে দিয়ে অনেকেই বলবেন, ‘ভালোবাসি, আমি তোমায় ভালোবাসি।’

ওপ্রান্ত থেকে হয়তো কোনো উত্তর পাওয়া যাবে না। হয়তো সে চুপ করে থাকবে। হয়তো সব জড়তা ভেঙে বলতে পারে, ‘আমিও তোমায় ভালোবাসি।’ আজ ভালোবাসার জয় হবেই। আজ যে ভালোবাসার দিন, ভ্যালেন্টাইন্স ডে।


বসন্তের ঝিরিঝিরি বাতাসে আজ হারিয়ে যাবে প্রেমিকযুগল। সব আবেগ আর অনুভূতি দিয়ে প্রিয় মানুষটিকে বুঝিয়ে দেবে ভালোবাসার গভীরতা। মানব-মানবীর চিরকালের যে প্রেম তার জয়গান হবে চারদিকে। আজকের এই রাঙা সকাল, বিকাল বা সন্ধ্যাটা একসঙ্গে কাটিয়ে প্রেমিকযুগল গাইবে ভালোবাসার গান। অনেকের জন্য যেমন আজকের কোনো একটা সময় হবে ভালোবাসার প্রথম প্রহর, তেমনিভাবে অনেকে উদযাপন করবেন একসঙ্গে পথচলার কয়েক বছর।

আজকের দিনে সবকিছুতেই প্রাধান্য পাবে ভালোবাসার মানুষটির পছন্দ। তাই প্রিয় মানুষটি প্রিয় রং বা প্রিয় পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে উপস্থিত হবেন আরেকবার। তবে ভালোবাসার রং লাল বলে বেশির ভাগ যুগলই নিজেদের সাজাবেন লালে। নতুন করে একে অপরের প্রেমে পড়বেন। নিজেদের মতো করে কাটিয়ে দেবেন সারাটি দিন।

আজ ভালোবাসা দিবসে প্রেমিকযুগলের পদচারণায় মুখর থাকবে শহরের নানা পথ-প্রান্তর। দু’জনে দু’জনার হাত ধরে ঘুরবে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। কারণ আজ নিজেদের মতো করে হারিয়ে যাওয়ার দিন। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ছবি-সেলফি তোলা চলবে। অনেক যুগল রিকশায় ঘুরে বেড়াবেন। অনেকে আবার বিভিন্ন উদ্যানে-পার্কে গাছের ছায়ায় বসে মন খুলে কথা বলবেন।

অনেক প্রেমিকযুগল আবার ভালোবাসা দিবসকে বেছে নিয়েছেন বিয়ের দিন হিসেবে। তাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে এখন বিয়ের দিন হিসেবেও জনপ্রিয়। দিনটিতে দু’জন দু’জনকে উপহার দেয়ার প্রচলন আছে। আজ চকোলেট, পারফিউম, বই, প্রিয় পোশাক, আংটি, ঘড়ি, খেলনা উপহার হিসেবে দেয়া-নেয়া চলবে। তবে সবচেয়ে বেশি দেয়া-নেয়া হবে রক্তগোলাপের। পাশাপাশি প্রেমবার্তা, শুভেচ্ছা কার্ড, ই-মেইল, মোবাইলে এসএমএস পাঠানো চলবে সমান তালে।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে তারুণ্যেরই জয়জয়কার দেখা যায়। আর দিবসটির মূলত প্রেমিক-প্রেমিকা বা মানব-মানবীর চিরায়ত প্রেমকেই বোঝানো হয়ে থাকে। ভালেন্টাইন্স ডে আমাদের দেশে এখন ঘটা করে পালন করা হলেও এটি এসেছে পশ্চিমা দেশের সংস্কৃতি থেকে। ভালোবাসা দিবস উদযাপনের ইতিহাস বেশ পুরনো এবং এ নিয়ে একাধিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত গল্পটি হচ্ছে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে নিয়ে। সময়টা ২৬৯ খ্র্রিস্টাব্দ। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক, যিনি একজন চিকিৎসকও ছিলেন। সেই সময় রোমান সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। রোমানরা একের পর এক রাষ্ট্র জয় করে চলেছে। যুদ্ধের জন্য রাষ্ট্রের বিশাল সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলা দরকার।

কিন্তু রাজ্যের লোকজন বিশেষ করে তরুণরা এতে উৎসাহী নয়। সম্রাট ধারণা করলেন, পুরুষরা বিয়ে করতে না পারলে যুদ্ধে যেতে রাজি হবে। তিনি তরুণদের জন্য বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন। কিন্তু প্রেমিক তারুণ্য মন এমন নিয়ম মানতে চায় না। তাদের পাশে এগিয়ে এলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। ভ্যালেন্টাইন প্রেমাসক্ত তরুণ-তরুণীদের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন।

কিন্তু এক সময় ধরা পড়ে গেলেন ভ্যালেন্টাইন। তাকে জেলে নেয়া হল। দেশজুড়ে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ভ্যালেন্টাইনকে জেলখানায় দেখতে যান। কারাগারের জেলারের একজন অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির অন্ধত্ব দূর করলেন। এক সময় হৃদয়ের বন্ধনে বাঁধা পড়লেন তারা।

ধর্মযাজক হয়েও নিয়ম ভেঙে প্রেম করা এবং বিয়ে করেন ভ্যালেন্টাইন। খবর যায় সম্রাটের কানে। তিনি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই তারিখটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের আজকের দিন ‘১৪ ফেব্রুয়ারি’। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে ভ্যালেন্টাইন তার প্রেয়সী এবং বধূকে যে চিঠিটি লেখেন তার শেষটায় লেখা ছিল ‘লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’। এরপর দুই শতাব্দী নীরবে-নিভৃতে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন্স দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

আজ ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে নানারকম আয়োজন রয়েছে। নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রয়েছে কবিতা আবৃত্তি, গান, নাটকের মঞ্চায়ন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিনটি উপলক্ষে প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

সুত্র: যুগান্তর

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!