ব্রেকিং

x

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার ফারহানা মিলি

মঙ্গলবার, ০৬ মার্চ ২০১৮ | ১:৩১ পূর্বাহ্ণ | 2586 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা আওয়ামীলীগ থেকে বহিস্কার ফারহানা মিলি
ফারহানা মিলি

আওয়ামী লীগ নেতাদের চরিত্র নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা মিলিকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এদিকে একই দিন তার ফেসবুক ওয়ালে ফারহানা মিলি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কথা বলেছেন।
গত শনিবার সকালে মিলি তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো : তিনি লিখেন, “রাজনীতি বুঝুক না বুঝুক, সেক্সনীতি বুঝলেই বাপের বয়সী সাধারণ সম্পাদকের কোলে বসে ফুরতি করাটাই রাজনীতিতে পদবি পাওয়ার কাজ দেবে! শিতি না হলে দোষ নাই, একাধিক নেতা আর হ ব্যবসায়ীদের শারীরিক সুখ দিতে পারলেই পদবি পাওয়া যাবে! মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই চারটা রাজনৈতিক ভালো কথা বলতে না পারলে ও হোটেলে গিয়ে বাচ্চাদের ভঙ্গিমায় প্রেমালাপ পারলেই রাজনীতি হবে! স্বামীর রোজগারে ঠিকমত বাসাভাড়া আসবে না, কিন্তু জীবনযাপনের স্টাইল লাখ টাকার বাজেটে করতে পারাটাই রাজনৈতিক সার্থকতা তাদের জন্যে!…‘পরিবারে নেই কোন জবাবদিহি, তাই যাচ্ছেতাই করা যায়। তাছাড়া বড় বান্ডেল দেখলে আয়বিহীন পরিবারের বাপ-মায়ের চোখে অসৎ মেয়ের গোলাপি চরিত্র সকল অপরাধ ই ম্লান করে দেয়! জানতে ইচ্ছে করে যদিও তাদের বাপ-মা কি তবে বেশ্যা ছিলেন??? তবুও না জেনে বুঝার বাকি থাকে না যে, বেশ্যা না থাকলেও নিজের মেয়ের বেশ্যাবৃত্তি কে রাজনীতির সার্টিফিকেট দিতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মূর্খ, অশিতি আর অবুঝ বাপ-মা!!’
এটাই তাদের জীবন,,,,,,
তারা এভাবেই চলে,,,,,,
তারা এমনি,,,,,,
কারণ???’
‘খুব সহজ, স্থানীয় এমপি আর রাজনৈতিক বড় পদের মালিকদের সাথে তাদের গোলাপঝরা শখ্যতা! অভঃবৎ ধষষ, তাদের ইয়াবা আর মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক পদ বেচে দেহব্যবসা সফল করতে ও সচল রাখতে এইসব পদবি আর বয়সে আব্বারা ই ত একমাত্র সহায়ক!’
সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিলির এমন স্ট্যাটাসের দলের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল তাকে মহিলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হলো। তাকে বহিষ্কার করে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম বলেন, ‘ফারহানা মিলি তার নিজস্ব যোগাযোগ মাধ্যমে যে অসৌজন্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সে জন্য বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তার এই সংগঠনপরিপন্থী অসৌজন্যমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’


এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা মিলি তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো


আমি ফারহানা মিলী,

সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা,

সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিস্কে, স্বজ্ঞানে, বিনা প্ররোচনায় আমার রাজনৈতিক পদবী থেকে অব্যাহতি নিচ্ছি, আমি আজ এই মুহুর্তে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব হতে এই পদবী হতে পদত্যাগ করলাম।

উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে ও আমি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভানেত্রী মিসেস মিনারা আলম কে পদত্যাগপত্র দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

বিঃদ্রঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ এর একবছর পার হলেও সভাপতি মিসেস মিনারা আলম এবং সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত কার্যত, মহিলা আওয়ামীলীগ এর জন্যে উন্নয়নমুখী কোন পদক্ষেপ আজও নেননি। দুইজনের অভ্যন্তরীণ মত পার্থক্য ও মানুষিক চিন্তা চেতনার বেমিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র বিভিন্ন উপজেলায় সীমাহীন দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং নারী নেত্রীদের সম্মানহানির কারণ হয়েছে বারবার।

কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দের ব্যাপক পরিশ্রমের ফসল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ এর বর্তমান কমিটি! তাই, কেন্দ্রীয় নেত্রীদের সম্মানার্থে আজ পর্যন্ত জেলার দুই সিনিয়র নেত্রীর সংঘাত নিয়ে কিছু বলতে পারিনি কখনোই, তাদের দুইজনকে এক করতে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ফলাফল? শূন্য।

যাইহোক, আমি আমার পদ থেকে পদত্যাগ এর মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায়ের ইতি ঘটাতে চাই।

আমাকে ক্ষমা করবেন কেন্দ্রীয় নেত্রীবৃন্দ! গত দুইদিন যাবত আমি অপেক্ষায় থেকে আজ পর্যন্ত আপনাদের কাছ থেকে কোন প্রকার সুরাহা না পাওয়ায় আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হলাম! আপনারা অভিভাবক, আপনাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমি আমার পদত্যাগ কার্যত চাই। খুব শীঘ্রই আমি স্বহস্তে আপনাদের নিকট আমার পদত্যাগপত্র পৌছাঁব ইনশাআল্লাহ!

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
জয় হোক বাংলার নারীনেত্রীদের।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!