ব্রেকিং

x

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদে যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩০, বাড়িঘর দোকান ভাংচুর

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ১১:১৯ অপরাহ্ণ | 1916 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদে যাওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩০, বাড়িঘর দোকান ভাংচুর

করোনা পরিস্থিতিতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সংঘর্ষ থেমে নেই। আজ বুধবার দুপুরে পূর্ব বিরোধের জের ধরে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিশনার এলাকায় দু’পক্ষের সংর্ঘষে নারী পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুরের শিকার হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।


পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিশার উত্তর পাড়া এলাকায় মসজিদে যাওয়া নিয়ে মিজান মিয়া ও মুনসুর মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুরে মিজান মেম্বারের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুনসুর মুন্সির বাড়ির লোকজনের উপর হামলা করে। পরে ইয়াছিন মুন্সির বাড়ির লোকজন পাল্টা হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ নয় রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।


নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল চৌধুরী জানান, তিন বাড়ি মিলে একটা মসজিদ নির্মাণ করা হয় বছর দশক আগে। এখন ওই পক্ষের কয়েকজন ইদানিং ওই মসজিদে না গিয়ে আরেকটি মসজিদে নামজা পড়তে চায়। কিন্তু মিজান মিয়ার লোকজন চাচ্ছিলেন তাঁরা যেন ওই মসজিদেই নামাজ পড়েন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হন। পুলিশ এসে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ. এম. নাজমুল আহম্মেদ সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কোন পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেন নি।

জেলার সবচেয়ে দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা সরাইলে গত ৫ এপ্রিল একদিনেই উপজেলার টিঘর, বড়ইছড়া, বিটঘর, নোয়াগাঁও, ধরন্তী, সৈয়দটুলা (দুইটি ঘটনা) এলাকায় সাতটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বড়ইছড়ায় অর্ধশতাধিকসহ শতাধিক লোক আহত হন। ৩১ মার্চ সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ভুঁইশ্বর গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার হওয়া দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ২৬ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ার সেল ছুড়তে হয়। ২৬ মার্চ বিজয়নগরের সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। ১২ এপ্রিল সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আঁখিতারা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হন।

করোনা পরিস্থিতিতে ১১ এপ্রিল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউনের মধ্যেই বরেণ্য ইসলামী আলোচক যোবায়ের আহম্মদ আনসারীর জানাজায় লাকো মানুষের উপস্থিতিও সারাদেশে আলোচনার জন্ম দেয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র মতে জেলায়, বুধবার পর্যন্ত জেলার ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। মারা গেছেন দুই জন। আইসোলেশনে থাকাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাতজন।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!