ব্রেকিং

x

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অমানবিকতার ভিড়ে মানবিকতার গল্প

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০ | ৭:১৩ অপরাহ্ণ | 330 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অমানবিকতার ভিড়ে মানবিকতার গল্প

বিশ্বজিৎ পাল বাবু:
করোনা আক্রান্ত ভয়ে বাবা-মাকে হাসপাতালে ফেলে চলে গেছেন সন্তান। বাবার মৃত্যুতে সন্তানকে কিংবা সন্তানের মৃত্যুতে দাফনে বা সৎকারের পাওয়া যায়নি বাবাকে। স্বামীর সৎকারের জন্য স্বজন বলতে স্ত্রীকে একা দেখা যায় শ্মশাণে। করোনা আক্রান্ত রোগীকের ঘৃণার চোখে দেখে এলাকা থেকে তাড়ানোর গল্পও আছে। এমন সব অমানবিক খবর ও ছবি করোনাকালীন সময়ে চোখে পড়ে অহরহ। এর বাইরে কিছু মানবিকতার গল্প রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। করোনা আক্রান্ত বাবার চিকিৎসায় হাসপাতালে ২৪ ঘন্টাই সঙ্গে ছিলেন তিন ছেলে। করোনা আক্রান্ত বাবা মারা যাওয়ার পর মা আক্রান্ত হলে ছেলে তাঁর চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এতে ছেলে আক্রান্ত হলেও মাকে সুস্থ করে তুলতে পেরে খুশি। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য নিজের বাড়িকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করতে দিয়েছেন যুবক।


মায়ের পাশে ছেলে
করোনার উপসর্গ নিয়ে ৩০ মে মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার নারায়ণপুরে বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম বন্দরের চাকরিজীবী আতাউর রহমান সেলিম। মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমানের ওই সন্তান এ হাসপাতাল ওই হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসাতেই মারা গেছেন। মৃত্যুর পরদিন তাঁর করোনা পজেটিভ আসে।


এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই স্ত্রী শাহীনূর আক্তারের মাঝেও করোনা উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষায় পজেটিভ আসে। নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ৮ মে অবস্থার অবনতি হলে শাহীনূর আক্তারকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই শুরু হয় মায়ের সঙ্গে ছেলের সংগ্রাম।

কথা হলে শাহীনূরের ছেলে তানভীর রহমান বুধবার দুপুরে বলেন, ‘করোনায় বাবাকে হারিয়েছি, মাকে হারাতে চাই না বলেই সঙ্গে থাকার চ্যালেঞ্জ নিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার পর যখন বলা হলো এখানে আলাদাভাবে কেউ দেখাশুনা করবে না তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম মায়ের সঙ্গে নিজেই থাকবো। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ি মায়ের সব ধরণের সেবা দিতে থাকলাম। তবে তিনদিন পর থেকে আমারও উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষায় আমারও করোনা পজেটিভ আসে। শেষ পর্যন্ত ১৯ জুন আসা ফলাফলে আমার আম্মা ও ২৬ জুন আমার নেগেটিভ আসে। আমরা দুইজনেই এখন সুস্থ আছি।’

আরও পড়ুন: আখাউড়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু

করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া আতাউর রহমান সেলিমের ভাই সাহিদুর রহমান শাহীন বলেন, ‘চট্টগ্রামে থাকা অবস্থায় আমার ভাই অসুস্থবোধ করলে নিয়ে আসি। চিকিৎসা করানোর জন্য ভাইয়ের সঙ্গে আমিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যাই। ভাই মারা যাওয়ার পর জানতে পারি করোনায় আক্রান্তের কথা। এক্ষেত্রে ভাইয়ের দাফন কার্যক্রম থেকে শুরু করে ভাইয়ের স্ত্রীর চিকিৎসার বিষয়ে আখাউড়ার ইউএনও আমাদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমার ভাতিজা সব কিছু তোয়াক্কা করে তার মায়ের সঙ্গে ছিলো।’

যুবকের বাড়িতে আইসোলেশন সেন্টার
জেলার নাসিরনগরে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সেবায় এগিয়ে এসেছেন মার্জান ভূইয়া নামে এক যুবক। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের আইসোলেশনে থাকার জন্য নিজের বাড়ির আটটি কক্ষ তিনি দিয়েছেন বিনা ভাড়ায়। বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচিত ও সমাদৃত হয়। ইতিমধ্যেই ওই বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ির আঙ্গুল ও ঠোঁট কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষ

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!