ব্রেকিং

x

বিদায় বেলায়ও মানবিক আখাউড়ার ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০ | ৬:১২ অপরাহ্ণ | 1066 বার

বিদায় বেলায়ও মানবিক আখাউড়ার ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা

ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা আখাউড়া উপজেলায় যোগদানের পর নিজের দক্ষতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে একের পর এক ভালো কাজ করেছেন আর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্থাপন করেছেন মানবিকতার এক অনন্য নজির। করোনায় মানিবক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেসহ পুরো পরিবার আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। যার জন্য উপজেলার সব মহলে তিনি আলোচিত হয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। স্থান করে নিয়েছেন সব শ্রেণীর মানুষের মনে। টানা ১৪ মাস আখাউড়া উপজেলায় দায়িত্ব পালনের পর তিনি সম্প্রতি স্বেচ্ছায় রাজশাহী বিভাগে বদলি হয়েছেন। ঈদের আগেই তার নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


আখাউড়ায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে অসংখ্য ভাল কাজের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তিনি। বিদায় বেলায়ও মানবিক কাজ করে যেতে ভূলে যাননি সরকারের মাঠ প্রশাসনের এই চৌকুস কর্মকর্তা। তাঁর চলে যাওয়ার মুহুর্তেও গতকাল বুধবার বিকালে তিনি উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের পানিবন্ধি ৫০টি পরিবারের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যান। বৃষ্টিতে ভিজে নৌকায় চড়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি নিজহাতে এই ত্রাণ বিতরণ করেন।


এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ, সরকারী কর্মচারীরা তার সেবক মাত্র। এটা শুধু সংবিধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বাস্তবে প্রমান করে গেলেন আখাউড়া উপজেলার এই আলোচিত ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা।

করোনা পরিস্থিতিতে আখাউড়ায় আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, করোনায় মৃতদের দাফন-সৎকার, মোবাইলে অসহায় কর্মহীন মানুষের ফোন পেয়ে গোপনে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়াসহ নানা ধরণের মানবিক কাজ করেছেন তিনি। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে তিনি উপজেলার মানুষকে ঘরে থাকতে বারবার অনুরোধ করে যাচ্ছিলেন। প্রতিদিন অন্তত দুইবার উপজেলার বাজারহাটসহ সমস্ত এলাকায় ছুটে বেরিয়েছেন। লকডাউন ভঙ্গ করার কারণে চালিয়েছেন একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত, করোনা বিষয়ে হ্যান্ড মাইক দিয়ে দিনের পর দিন সবাইকে সর্তক করছিলেন। করোনাকালে ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের দাম বেশি নিতে না পারেন সে জন্য তিনি উপজেলার বিভিন্ন বাজারও ঘুরে দেখেন।

এই অবস্থায় গত ১৬ জুন তিনি নিজেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যান। পরে তার সংস্পর্শে স্বামী হাইকোর্টের আইনজীবী রাসেদুল ইসলামও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। বেশ কিছুদিন নিজের বাসায় হোম আইসোলেশনে থাকার পর পুনরায় তিনি মানবিক কাজে নেমে পড়েন। ঘরে তিন বছরের কোলের সন্তানকে রেখেই তিনি মানবিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি করোনা আক্রান্ত ও সুস্থ্যদের উপযোগী বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। রোজার ঈদের দিন দুপুরে বেতনের টাকা দিয়ে ২০০ জন ভাসমান ছিন্নমূল মানুষকে নিজে রান্না করে মাংস পোলাওসহ উন্নত খাবার পরিবেশন করেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, করোনাকালীন সময়ে আখাউড়া উপজেলায় ১৪ হাজার ১৪৮ জন গরিব, অসহায়, ভাসমান কর্মহীন মানুষের মধ্যে ২০২.৭৫০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ হয়েছে। ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকার মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন করোনা সামগ্রী বিতরণ হয়। ৭২৭৬ জন দরিদ্রদের মধ্যে শিশু খাদ্যসহ অর্থসহায়দা দেয়া হয় ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়াও তিনি বাল্যবিয়ে ও যৌতুক প্রথা বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সরকারী জমি উদ্ধার এবং মাদক নির্মূলে একের পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি উপজেলা পরিষদের সামনে তৈরী করেছেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল।নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে শুরু করে ফুল,ফলজ ও ঔষধী গাছে সাজিয়েছেন পুরো পরিষদ এলাকা।

ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি যেখানেই থাকি মানুষের জন্য কাজ করে যাব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি উদ্যোগ সফল করতে আমি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাব। এতে যত বাধাই আসুক পিছপা হব না।

তিনি আরো বলেন, কর্মক্ষেত্রে সহায়তাসহ করোনা থেকে আরোগ্য কামনায় আখাউড়াবাসী মন খোলে দোয়া করেছেন। তাদের দোয়ায় আমি দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠেছি। বিদায় বেলায় আখাউড়াবাসীর প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি সকলের নিকট নিজের জন্য দোয়াও চেয়েছেন।

তিনি আরো জানান, তিনি স্বেচ্ছায় বদলি হয়েছেন রাজশাহীতে। ঈদের আগে তিনি নতুন কর্মস্থলে চলে যাবেন। এবারই নিজের আত্মীয় স্বজনদের সাথে ঈদ করবেন।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!