ব্রেকিং

x

পুলিশ হুমকি দেয়ার পর দোকানে তালা দিলো প্রতিপক্ষ

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ | 322 বার

পুলিশ হুমকি দেয়ার পর দোকানে তালা দিলো প্রতিপক্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে চারটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ এসে দোকান বন্ধ করার হুমকি দেয়ার পরই প্রতিপক্ষ এসে তালা লাগিয়ে দেন। অবশ্য পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপে প্রায় ২০ ঘন্টা পর দোকানের তালা খুলে দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সালিশ সভা ডেকেছেন মেয়র। তবে প্রতিপক্ষের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। প্রকাশ্যে এভাবে তালা দেয়ার ঘটনা ও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয়।


কসবা পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা ভানু লাল রায় অভিযোগ করেছেন, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ইতিমধেই ভাগবাটোরায়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অঙ্গীকার নামাও আছে চার ভাইয়ের মধ্যে। কিন্তু তাঁর এক ভাই দুলাল রায় ১১১০ দাগের একটি দোকান জবর দখল করার চেষ্টা করতে থাকেন। এরই মধ্যে সোমবার রাতে দুলাল ও তার ছেলে দীপঙ্কর চারটি দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। এর আগে কসবা থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আমিনুল ইসলাম ওই চার দোকানের ভাড়াটিয়াকে এসে দোকান না খোলার কথা ও মালিকসহ থানায় যাওয়ার কথা বলে যান। অবশ্য গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কসবা পৌরসভার মেয়র এ বিষয়ে দুইপক্ষ ডাকালে বৃহস্পতিবার মীমাংসা করা হবে বলা হয়। পরে মেয়রের নির্দেশে বিকেলে তালা খুলে দেন দুলাল। এর কিছুক্ষণ পর দুলালের ছেলে দীপঙ্কর বাসায় গিয়ে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেন।


তিনি অভিযোগ করেন, বিএস, সিএসসহ যাবতীয় কাগজপত্রে তাদের নাম রয়েছে। এমনকি সে দোকান মালিকানা না থাকার বিষয়েও লিখিত অঙ্গীকারনামা দেয়। এরপরও নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে দোকানঘর দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর তিনি পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে দুলাল রায়ের ছেলে দীপঙ্কর রায় বলেন, ‘আমার বাবা ওই জায়গার মালিক। পুরাতন বাজার কমিটির সভায় হওয়া সিদ্ধান্ত মতে দোকানে তালা লাগানো হয়। পরে মেয়র মীমাংসার দায়িত্ব নিলে আবার তালা খুলে দেয়া হয়।’

পুরাতন বাজার ব্যবসায়ি পরিচালনা কমিটির সাধারান সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘দুলাল আমাদেরকে তার নামে ওই জায়গার বিএস’র একটি কাগজ দেখিয়েছে। তিনি দোকানটি বিক্রি করে দিলেও দখল দিতে পারছেন না। যে কারণে দোকানঘর দুলালের বলে রায় দিয়ে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়। তবে এখন মেয়র এ বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে বৃহস্পতিবার বাজার কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে সভা ডেকেছেন।’

থানার এএসআই মো. আমিনুল ইসলাম অবশ্য হুমকি দেয়ার বিষয়টি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, দুলাল রায় থানায় একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করলে এরই প্রেক্ষিতে দোকান কর্মচারি ও মালিককে থানায় আসতে বলা হয়েছে।

কসবা পৌরসভার মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বসা হয়। আলোচনার পর দোকানের তালা খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সভা ডাকা হয়েছে।’

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!