ব্রেকিং

x

দ. আফ্রিকায় হারের রেকর্ড কি ভাঙতে পারবে ভারত?

বৃহস্পতিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ | 546 বার

দ. আফ্রিকায় হারের রেকর্ড কি ভাঙতে পারবে ভারত?

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার আক্ষেপ ঘুচানোর মিশন নিয়ে আগামীকাল মাঠে নামছে সফরকারী ভারত। ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রোটিয়াদের মাটিতে ছয়টি সিরিজে অংশ নিয়ে একটিও জিততে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। তাই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিরাট কোহলির দল। কেপ টাউনে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায়।


১৯৯২ সাল প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ খেলে প্রোটিয়ারা। চার ম্যাচের ওই সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আরো পাঁচবার টেস্ট সিরিজে অংশ নেয় ভারত। এর মধ্যে চারটি সিরিজ হারে টিম ইন্ডিয়া। ২০১০ সালের সফরে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ভারতীয় দলটি। তবে সর্বশেষ ২০১৩ সালের সফরে ভারতকে সিরিজ হারের স্বাদ থেকে রক্ষা করতে পারেননি ধোনি-কোহলিরা। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে হারে ভারত।


সিরিজ জিততে না পারার সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে খুব বেশি ম্যাচও জিততে পারেনি ভারত। ১৭ ম্যাচে অংশ নিয়ে মাত্র দুটিতে জয়, ৮টিতে হার ও ৭টি ম্যাচে ড্র করে টিম ইন্ডিয়া। ২০০৬ সালের সফরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ১২৩ রানে জিতেছিলো রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারত। জোহানেসবার্গের টেস্ট জয়ের পর ডারবান ও কেপ টাউনে পরের দু’ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করে ভারত। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দ্বিতীয় জয় পায় ভারত। ডারবানে বক্সিং-ডে টেস্টে ৮৭ রানে জয় পায় ধোনিরা।

অতীতের এমন দুঃস্মৃতি ভুলে ভালো ফলের প্রত্যাশায় এবারের সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয়ের কথা বললেন ভারতের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান আজিঙ্কা রাহানে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আমাদের অতীত রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। তবে এসব নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। চিন্তিত নই এখানকার কন্ডিশন নিয়ে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে লক্ষ্য পূরণ হবে। এবারের সফরে আমাদের লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয় করা। প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বাদ নেয়ার জন্য দলের সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে। নিজেদের প্রমাণ জন্য ছটফট করছে সবাই। আমরা এবার ভালো ফল অর্জন করতে সক্ষম হবো। কারণ, আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে রয়েছে। এবারই সুযোগ এখানে ভালো কিছু অর্জন করা। এবারের দলটি অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভালো পারফরমেন্স করতে সবাই ব্যকুল।’

নিজেদের মাটিতে ভারতের পারফরমেন্স ভালো না হলেও প্রতিপক্ষকে সমীহ করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার ডিন এলগার। তিনি বলেন, ‘এখানে ভারতের অতীত রেকর্ড তেমন একটা ভালো নয়। মাত্র দুটি ম্যাচ জিততে পেরেছে তারা। তবে এবারের ভারতের দলটি অনেক বেশি শক্তিশালী। তারা চ্যালেঞ্জ নিতে জানে। বিশ্বসেরা দল হয়েই সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে ভারত। তবে আমরাও প্রস্তুত। ভারতকে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলতে চাই এবং পুরো সিরিজে আমরা ভালো ফল অর্জন করতে চাই।’

দক্ষিণ আফ্রিকা দল : ফাফ ডু-প্লেসিস(অধিনায়ক), হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা, কুইন্টন ডি কক, তিউনিস ডি ব্রুইয়ান, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডিন এলগার, কেশব মহারাজ, আইডেম মার্করাম, মরনে মরকেল, ক্রিস মরিস, আন্ডিল ফেলুকুয়াও, ভারনন ফিলান্ডার, কাগিসো রাবাদা ও ডেল স্টেইন।

ভারত দল : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জসপ্রিত বুমরাহ, শিখর ধাওয়ান, রবীন্দ্র জাদেজা, ভুবনেশ্বর কুমার, হার্ডিক পান্ডিয়া, পার্থিব প্যাটেল, চেতেশ্বর পুজারা, আজিঙ্কা রাহানে, লোকেশ রাহুল, ঋদ্ধিমান সাহা, মোহাম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা, রোহিত শর্মা, মুরালি বিজয়, উমেষ যাদব।

ভারত-দ. আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট সিরিজের ফ্যাক্টবক্স

নিউল্যান্ডসের ম্যাচ দিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ম্যাচগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা ৩০ মিনিটে। নিচে উভয় দলের টেস্ট সিরিজের ঘটনাবলী তুলে ধরা হলো :

চলতি সফরের সূচি :

প্রথম টেস্ট জানুয়ারি ৫-৯, নিউল্যান্ডস, কেপ টাউন

দ্বিতীয় টেস্ট জানুয়ারি ১৩-১৭,সেঞ্চুরিয়ান, প্রিটোরিয়া

তৃতীয় টেস্ট জানুয়ারি ২৪-২৮ ওয়ান্ডারার্স, জোহানেসবার্গ

দক্ষিণ আফ্রিকা :

টেস্ট র‌্যাঙ্কিং : দ্বিতীয়

অধিনায়ক : ফাফ ডু প্লেসিস

কোচ : ওটিস গিবসন

সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কধারী টেস্ট ব্যাটসম্যান : হাশিম আমলা (৭)

সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কধারী বোলার : কাগিসো রাবাদা(২)

দল : ফাফ ডু-প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা, কুইন্টন ডি কক, তিউনিস ডি ব্রুইয়ান, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডিন এলগার, কেশব মহারাজ, আইডেম মার্করাম, মরনে মরকেল, ক্রিস মরিস, আন্ডিল ফেলুকুয়াও, ভারনন ফিলান্ডার, কাগিসো রাবাদা, ডেল স্টেইন।

কেপ টাউনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৮২ রানের জয় দিয়ে ২০১৭ সাল শুরু করে প্রোটিয়ারা। এরপর জোহানেবার্গে দ্বিতয়ি ম্যাচে ইনিংস ও ১১৮ রানের জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। নিউজিল্যান্ডে ডানেডিন টেস্ট ড্র’র মধ্যদিয়ে বিদেশ সফর শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েলিংটন টেস্টে ৮ উইকেটে জয় পায়। হ্যামিলটনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ড্র শেষ করে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে কিউই সফর শেষ করে ফাফ ডু প্লেসিসের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপরই ইংল্যান্ড সফরে যায় প্রোটিয়ারা।

লর্ডসে প্রথম টেস্টে ২১১ রানে হারার পর নটিংহ্যাম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৪০ রানে বড় ব্যবধানে জয় পায় দলটি। ওভাল টেস্টে ২৩৯ ও ম্যানচেস্টার টেস্টে ১৭৭ রানে পরাজিত হয় তারা। এরপর নিজ মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে ৩৩৩ রানের জয়ের পর ব্লয়েমফন্তেইনে দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস ও২৫৪ রানে জয় পায় প্রোটিয়ারা। গত মাসে পোর্ট এলিজাবেথে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐতিহাসিক চার দিনের দিবা-রাত্রির টেস্টে ইনিংস ও ১২০ রানের জয় দিয়ে বছর শেষ করেছে দক্সিণ আফ্রিকা।

ভারত :

টেস্ট র‌্যাঙ্কিং : এক

অধিনায়ক : বিরাট কোহলি

কোচ : রবি শাস্ত্রি

সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কধারী টেস্ট ব্যাটসম্যান : কোহলি (২)

সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কধারী টেস্ট বোলার রবীন্দ্র জাদেজা (৩)

দল : বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রবিচন্দ্রন অশ্বিন, জসপ্রিত বুমরাহ, শিখর ধাওয়ান, রবীন্দ্র জাদেজা, ভুবনেশ্বর কুমার, হার্ডিক পান্ডিয়া, পার্থিব প্যাটেল, চেতেশ্বর পুজারা, আজিঙ্কা রাহানে, লোকেশ রাহুল, ঋদ্ধিমান সাহা, মোহাম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা, রোহিত শর্মা, মুরালি বিজয়, উমেষ যাদব।

নিজ মাঠে হায়দারাবাদ টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ২০৮ রানের জয় দিয়ে ২০১৭ সাল শুরু করে ভারত। নিজ মাঠে গতবছর কোন টেস্ট সিরিজ হারেনি টিম ইন্ডিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দিয়ে বছর শুরুর পর সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজ জয় করে ভারত। পুনে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩৩৩ রানের বড় পরাজয়ের পর বেঙ্গালুরুতে দ্বিতীয় ম্যাচেই ৭৫ রানের জয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ভারতীয়রা। রাঁচি ম্যাচ ড্র করার পর ধর্মশালায় ৮ উইকেটে জয় পায় স্বাগতিক ভারত।

এরপর গল টেস্টে ৩০৪ রানের জয় দিয়ে শ্রীলঙ্কা সফর শুরু করে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন দলটি। কলম্বো টেস্টে ইনিংস ও ৫৩ রানের পর পাল্লেকেলেতে ইনিংস ও ১৭১ রানে লংকাকে হারায় ভারত। বছরের শেষ ভাগে নিজ মাঠে আবারো লংকানদের মুখোমুখি হয় বিরাটের দল। কোলকাতায় সিরিজের প্রথম ম্যাচ ড্র হওয়ার পর নাগপুরে ইনিংস ও ২৩৯ রানে জয় পায় ভারতীয়রা। তবে দিল্লিতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হয় ড্র।

ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের পূর্বের ফল:

ম্যাচ-৩৩

দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ১৩

ভারতের জয় ১০

ড্র ১০

পূর্বেকার সিরিজগুলো :

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে চার টেস্ট সিরিজে নিজ মাঠে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনটি ম্যাচ ড্র হয়। এরপর ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ মাঠে তিন টেস্টের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় লাভ করে ভারত। একই মৌসুমে ভারতের ফিরতি সফরে তিন টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জীয় হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের একটি ম্যাচ হয় ড্র। ১৯৯৯-২০০০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টর সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় ভারতীয়রা।

পরের বছরে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজিত হয় উপমহাদেশের দলটি। তবে ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ মাঠে দুই টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারায় ভারত। পরের বছর নিজ মাঠে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারায় প্রোটিয়ারা। তবে এক বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভালো করতে সক্ষম হয় ভারতীয়রা। তিন ম্যাচ সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করতে সক্ষম হয় ভারত।

২০০৯-১০ মৌসুমে ১-১ ড্র অবস্থায় সিরিজ শেষ করে ভারত-ক্ষিণ আফ্রিকা। পরের বছরও তিন টেস্টের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতা রেখে ড্র করে দল দুটি। কিন্তু ২০১৩-১৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে দুই টেস্ট সিরিজ ০-১ ব্যবধানে হারে ভারত। তবে ২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ মাঠে চার টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় ভারত। এক ম্যাচ হয় ড্র।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!