ব্রেকিং

x

দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসত্য ও বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিয়েছেন-মানিক সরকার

শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০:২০ পূর্বাহ্ণ | 461 বার

দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসত্য ও বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিয়েছেন-মানিক সরকার

সিপিআইএমের পলিট ব্যুরো সদস্য ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন ত্রিপুরায় এসে ত্রিপুরার বামফ্রন্ট সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসত্য বলেছেন, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে অসত্য তথ্য প্রত্যাশিত নয়। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থেকে কিছু বলতে গেলে হোমওয়ার্ক থাকা প্রয়োজন। তোতা পাখির মত বললে নিজের এবং পদের সম্মানহানী হয়।


গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাইমাভ্যালি কেন্দ্রের বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী ললিত ত্রিপুরা এবং সন্ধ্যায় আগরতলা রামনগর কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী রতন দাসের সমর্থনে আয়োজিত দুইটি নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই সব কথা বলেন,


তিনি আরো বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রিপুরারাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে গেছেন। তারা রাজ্য এবং বামফ্রন্ট সরকার সম্পর্কে স্থানীয় বিজেপি নেতাদের শেখানো কথা তোতা পাখির মতো বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এখানে এসে বেমালুম বলে দিলেন ত্রিপুরায় আই-শৃংখলা নেই। রাজনাথ সিংহ মনে হয় ভুলে গেছেন তিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যের দেয়া কাগজ দেখে টুকলি করার মতো অসত্য কথা বলার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদের মর্যাদার কথা একটুও ভাবলেন না? রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যের জবাব দিয়ে গিযে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ন্যাশনাল ক্রাইম রের্কড থেকে তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর ত্রিপুরায় অপরাধের হার ও মহিলাদের উপর নির্যাতনের ঘটনার হার কমেছে। বেড়েছে অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের হার। এই তথ্য আমাদের তৈরী নয়, কেন্দ্রীয় সরকারেরই তৈরী। দলের জন্য ভোট চাইতে এসে অসত্যের আশ্রয় নিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এত নীচে নামতে হবে?

কোনো রাজ্যে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ থাকলে সীমান্তবর্তী কোনো রাজ্য বহি:শত্রুর তৎপরতা থাকলে বা কোনো রাজ্যের আভ্যন্তরিন শান্তি বিনষ্ট হলে আফম্পা (এ এফ এস পি এ) বা উপদ্রুত আইন লাগু হতে পারে। আমাদের রাজ্যেও এক সময় আফম্পা ও উপদ্রুত আইন চালু ছিল। সন্ত্রাসবাদীরা কোণঠাসা হবার পর পরিস্থিতি উন্নতি হয়ে শান্তি ফিরে আসায় এই আইন রাজ্য থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে আফম্পা ও উপদ্রুত আইন চালু আছে মনিপুর, অসম, নাগাল্যান্ড, কাশ্মিরের মতো রাজ্যে। এই রাজ্যগুলির শাসনভার কোন দলের হাতে? বিজেপি এই সমস্ত রাজ্যে বিধায়ক কিনে, কোথাও দল ভাঙ্গিয়ে সরকার চালাচ্ছে। আমাদের রাজ্যে আফম্পা ও উপদ্রুত আইন চালু না থাকা সত্বেও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিলেন ত্রিপুরায় আইন শৃংখলা নেই।

সোনামুড়া ও কৈলাশহরে বিজেপির নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মানিক সরকার বলেছেন, সোনামুড়ায় বিজেপি মঞ্জে পৃথক রাজ্যের দাবীদার আইপিএফটি নেতাকে জামাই আদরে নিয়ে বসানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে দেখিয়ে হ্যান্ডসেকও করলেন কিন্তু ত্রিপুরাকে ভেঙ্গে দু টুকরো করার আইপিএফটির দাবী সম্পর্কে নিশ্চুপ রইলেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক মহিলা যেমন তাদের ভাসুরদের সম্পর্কে কিছু বলেন না, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও আইপিএফটির ত্রিপুরা ভাঙ্গার দাবী সম্পর্কে কোন কথা বলতে চান না। বিজেপি নেতারা ভোট চাইতে এলে জিজ্ঞাসা করবেন, আপনাদের সর্বভারতীয় নেতারা যারা দেশের সরকার পরিচালনা করছেন তারা রাজ্য ভেঙ্গে টুকরো করার আইপিএফটির সম্পর্কে কিছু বলছেন না কেন। যড়যন্ত্র কোথায় বুঝতে হবে।

ত্রিপুরার বামফ্রন্ট সরকার কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দেয়া টাকা খরচ করতে পারেনা বলে প্রধানমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, আমরা কত টাকা খরচ করতে পারিনি তা উল্লেখ্য করেননি প্রধানমন্ত্রী। কত টাকাই বা ত্রিপুরাকে দেয়া হচ্ছে? উল্টো টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বাতিল করে দেয়ার পর আমাদের মতো রাজ্যের প্রতিবছর ১,৭০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের মতো ছোট্র রাজ্য এত টাকার ঘাটতি কোথা থেকে এনে পোষাবে। আমরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি বিশেষ ক্যাটাগরিরর রাজ্য হিসাবে পরিকল্পনা কমিশন থাকতে আমরা পরিকাঠামো উন্নয়নে যে অর্থ সাহায্য পেতাম তা বন্ধ করে দিলে কী করে বাকী কাজগুলো সম্পন্ন করব। পরিকল্পনা কমিশন তুলে দেবার পর গঠিত নীতি আয়োগ প্রধানমন্ত্রীই নিয়ন্ত্রন করছেন কিন্তু কোন সাহায্যই করা হল না। পরিকল্পনা কমিশন থাকতে আমরা রাজ্যে যে কাজগুলো হাতে নিয়েছিলাম তার জন্য ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা দরকার। অনেক বার বলার পর প্রথম ১৩৪ কোটি টাকা মাত্র দেয়া হল। এই টাকা খরচ করে সব হিসাব দিয়েছি। পরে রাজ্যের চাপের মুখে আরও ১২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়। তাও আর্থিক বছরের একেবারে শেষে। এই টাকা তুলতে গেলে অর্থমন্ত্রক তার অনুমতি দেয়নি। এসব কি প্রধানমন্ত্রী জানেন না? এটাকে টাকা ফেরত যায় বলে দেয়া হল? কী জবাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

কেন্দ্রীয় সরকার থেকে রাজ্যের জন্য যে টাকা আমরা পাই তা দয়ার দান নয়। এই  টাকা দেশবাসীর সম্পত্তি। এটা আমাদের হকের টাকা। কোন দল বা ব্যক্তির পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। আমাদের রাজ্যে ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশ টাকা খরচ হয়। আর্থিক বছরের শেষ সপ্তাহে টাকা এলে কী করে তা খরচ করা সম্ভব? পরের বছরের শুরুর হিসাবে এই টাকার উল্লেখ্য থাকে। আমরা টাকা খরচ করে হিসাব দেই। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, বাজেটে যে টাকা ধরা হয় তার সবটা কী খরচ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার? টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে পারফরমেন্স ভালো বামফ্রন্ট সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোন টাকা ফেরত যায় তা তথ্য দিয়ে বলুন।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানান, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে রেগার কাজ চালিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকার থেকে ১০০ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল। সেই টাকা এখনও পেলাম না আমরা। ধার করা টাকাই দিল না, আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন টাকা নকী ফেরত যায়। তিনি আরো বলেন রেগায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে পর পর চারবার প্রথম হওয়া সত্বেও ত্রিপুরার শ্রমদিবস অর্ধেকের বেশি কমিয়ে বছরে মাত্র ৪২ দিন বরাদ্ধ করা হয়েছে। তারপরও এখন পর্যন্ত যে টাকা বরাদ্ধ করা কথা তা দিচ্ছেনা। নানা রকম প্রশ্ন তুলে রেগার কাজে প্রতিবন্ধিকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ত্রিপুরাকে হাতে মারতে না পেরে ভাতে মারার চেষ্টা হচ্ছে। এই করে দেশের ভালো করবেন তারা? যতই দলীয় প্রচারে আসেন না কেন, যারা এখনও বিজেপির সঙ্গে আছেন তাদেরকেও এই বিষয়গুলো যুক্তি, বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। অসত্য কথায় বিভ্রান্ত হয়ে ভুল জায়গায় ভোট দিয়ে নিজের পায়ে কুড়োল না মারার জন্য ভোটারদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী আহবান জানান।

জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, সিপিআইএমের ত্রিপুরারাজ্য কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী, পল্লব সেনগুপ্ত, রতন দাস, ললিত ত্রিপুরা, শুভাশিস গাঙ্গুলী, অসিত ভৌমিক, , পতিরাম ত্রিপুরা, সন্তোষ চাকমা, বনবিহারী সাহা, চম্পাবালা ত্রিপুরা জোৎস্না বেগম প্রমুখ।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!