ব্রেকিং

x

ঢাকা-ভৈরব-আখাউড়া রেলপথে ছিনতাই, ট্রেনে ঢিল নিত্যদিনের ঘটনা

শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | 449 বার

ঢাকা-ভৈরব-আখাউড়া রেলপথে ছিনতাই, ট্রেনে ঢিল নিত্যদিনের ঘটনা
প্রতীকী ছবি

বিশ্বজিৎ পাল বাবু:
ট্রেনের গতি ৭০ কিলোমিটারের মতো। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস নামে ট্রেনটি নরসিংদীর মেথিকান্দা স্টেশনে প্রবেশের মুহুর্তে নারী যাত্রীর হাত ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া হয়। জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ব্যাগ নিয়ে আবার ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরই মধ্যে ব্যাগ থেকে গায়েব ১০ হাজার টাকা। গত ৯ নভেম্বরের এ ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যান গ্রুপে পোস্ট দেন সানা উল্লাহ নামে এক যাত্রী।
গত বছরের ৬ মার্চ ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম। রাত ১০টার দিকে ট্রেনটি গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে থামলে জানালার পাশে থাকা রাকিবুলের মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়। ট্রেন থেকে নেমে পিছু নিয়ে ছিনতাইকারিকে ধরেও ফেলেন রাকিবুল। এরই মধ্যে রাকিবুলের বুকে ছুরি চালানো হলে তিনি প্রাণ হারান।


ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া থেকে ঢাকা পর্যন্ত এলাকায় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা নিত্যদিনের। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায় ব্যাগ নেয়ার জন্য ছিনতাইকারিদের হেচটা টানে মহানগর গোধূলি ট্রেন থেকে ছিটকে পড়েন সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক নারী। আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়ণপুর গ্রামের ওই নারী আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী ও ট্রেন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উল্লেখিত রেলপথের অন্তত আট-১০টি স্থানে ট্রেনে নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। মাঝে মাঝে কিছু ছিনতাইকারি ধরা পড়লে ছিনতাই পরিস্থিতির লাগাম টানতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। পাথর ছোড়ার ঘটনায় সচেতনতা সৃষ্টি করা হলেও সেটা থামছে না।


কথা হয় ঢাকায় বেসরকারি চাকুরিরত  আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের পলাশ সাহার সঙ্গে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়  তিনি বলেন, ‘গত ২০ ফেব্রুয়ারী ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসে ট্রেনে বাড়ি আসছিলাম। ট্রেনটি গাজীপুরের পূবাইল স্টেশন ছাড়ার পর আমাদের ‘ঞ’ বগিতে বাইরে থেকে ঢিল ছোড়া হলে এই নারীর উপর এসে পড়ে। পাশে ‘ঝ’ বগিতেও একাধিক ঢিল ছোড়া হয়।’

আখাউড়া বড় বাজারের শামীম শিশির বলেন, ‘করোনার কারণে ট্রেন বন্ধ হওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে ঢুকার মুহুর্তে এক নারী যাত্রীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ পথে চলতে গিয়ে আমি নিজেও বেশ কয়েকবার ছিনতাইকারির কবলে পড়েছি। টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার পর আমিসহ একাধিক যাত্রীর চোখে মরিচের গুড়াও ছিটিয়ে দেয়া হয়।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি চক্র এসব ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে নারীদের একটি চক্রও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। পুরুষ ছিনতাইকারিরা ট্রেনের ছাদ থেকে বিশেষ কায়দায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। নারী ছিনতাইকারিরা কৌশলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়। ছিনতাইকারিদের মূল টার্গেট থাকে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা।

আখাউড়া রেলওয়ে থানা গত বছরের অক্টোবর মাসে তিন নারী ছিনতাইকারিকে গ্রেপ্তার করে। চট্টগ্রামগামী আন্ত:নগর প্রভাতী ট্রেন চলন্ত অবস্থায় ওই নারীরা ছিনতাই করে পালানোর সময় তাদেরকে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। যাত্রীদের সহযোগিতায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ওসাইল্লা গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম, একই এলাকার জুয়েল মিয়া স্ত্রী রেজিয়া বেগম, রহমত উল্লাহ’র স্ত্রী সুমি আক্তার। ওই মাসেই

নোয়াখালীগামী উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার আফাজ উদ্দিনের ছেলে সুমন, নান্দাইল উপজেলার তাহের মিয়র ছেলে বাবুল, অষ্টগ্রাম উপজেলার আসকর মিয়ার ছেলে সুুমন, সদর উপজেলার মোক্তার হোসেনের ছেলে জীবন, ময়মনসিংহের আবুল হোসেনের ছেলে রুবেল মিয়া, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মানিকের ছেলে সুমন।

২৯ অক্টোবর কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর চট্টগ্রাম-ঢাকা পথের সোনার বাংলা ট্রেনে পাথর ছুঁড়া হলে ‘জ’ বগির জানালার কাচ ভেঙ্গে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হন নি। ট্রেনটি আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে আসার পর জানালার কাচের বদলে হার্ডবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয়।
বুধবার রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন পার হওয়া ঘটনা সম্পর্কে একাধিক সূত্র জানায়, সাবিনা ইয়াসমিন নামে আখাউড়ার চরনারায়ণপুর গ্রামের ওই নারীর হাত থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে ছিনতাইকারি টান দিলে তিনি ট্রেন থেকে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়।

ভৈরবের মো. ফাহাদ নামে এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে জানান, খবর পেয়ে তিনি স্টেশন এলাকায় ছুটে যান। ওই নারীর সঙ্গে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও গেছেন। আত্মীয়-স্বজনরা এলে তাঁদের কাছে ওই নারীকে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি চলে আসেন। চিকিৎসারকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘ভৈরব থেকে টঙ্গী পর্যন্ত এলাকায় আগের তুলনায় ছিনতাই অনেক কমেছে। আমি যোগদানের পর এক মাসেই ২৭ জন ছিনতাইকারিকে গ্রেপ্তার করি। বুধবার রাতে ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে আগের দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎপরতা আরো বাড়ানো হয়েছে।’

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!