ব্রেকিং

x

ছাত্রলীগের দুই পদে শতাধিক প্রার্থী, নৌ ভ্রমণ করিয়ে মন জোগানোর চেষ্টা!

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ

ছাত্রলীগের দুই পদে শতাধিক প্রার্থী, নৌ ভ্রমণ করিয়ে মন জোগানোর চেষ্টা!

বিশ্বজিৎ পাল বাবু,
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয় ২০০৪ সালে। প্রায় আট বছর পর ২০১২ গঠিত হয় আহবায়ক কমিটি। তিন মাস মেয়াদের সেই ছয়জনের কমিটি দিয়েই চলছে উপজেলা ছাত্রলীগ।করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেয়া হলে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রায় ১০০ জন ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আরো আট-১০ জন প্রার্থী হতে সিভি জমা দিয়েছেন। এ অবস্থায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ও মন জোগাতে নৌকা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের সম্ভাব্য প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১০০ নেতা-কর্মী কিশোরগঞ্জের মিঠাইন, ইটনা, অষ্ট্রগ্রাম এলাকায় হাওড়ে ঘুরতে যান। একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় (ট্রলার) করে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার পথ যান তাঁরা। নৌকাতেই উচ্চস্বরে গান বাজানো হয়। পরে হাওড় এলাকায় গিয়ে নেতা-কর্মীরা পানিতে নামেন। পরে খাওয়া-দাওয়া করেন। তাঁদের ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়।


এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্তত ১৫-২০ জন স্ট্যাটাস দেয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এ ধরণের আয়োজন নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগে ক্ষোভ থাকলেও কেউ মুখ খুলে কিছু বলতে চাইছেন না। মূলত সম্ভাব্য সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থীদের কয়েকজন এ আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা।
ওই আয়োজনে যোগ দেয়া ও নাসিরনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘একজন আরেকজন বলার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনটা হয়ে যায়। অনেকদিন ধরেই ঘুরতে যাওয়া হয় না বলেই সেখানে যাওয়া। নাসিরনগর থেকে যেতে সাড়ে তিন ঘন্টার পথ বলে মূলত সময় কাটানোর জন্যই গান বাজানো হয়। এখানে ছাত্রলীগের গানসহ অন্যান্য গানও বাজানো হয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নাসিরনগরে ছাত্রলীগের কমিটি কিংবা কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এখন যা আছে সেটা মৌখিক কমিটি। তবে ওই আয়োজনের সঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই।’
আয়োজকদের অন্যতম জি এম সোহেল আহমেদ বলেন, ‘আসলে আমরা ১০-১৫ জন বন্ধু মিলে ঘুরতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নৌকায় গিয়ে ছোট ছোট অনেক ভাইয়েরা উঠে যায়। তাদেরকে ফেলে যাওয়ার পরিস্থিতি ছিলো না। আমাদের খাবারের সংকট হয়। এত লোকজন হবে সেটা আমরা ভাবতেও পারিনি। তবে ছাত্রলীগের সম্মেলনের সঙ্গে এর কোনো যোগসাজশ নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, ‘আমাদের এখানে চেইন অব কমান্ড নেই বললেই চলে। এখন সবাই ছাত্রলীগ। আমরা একটি মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেয়ার পর শুধুমাত্র সভাপতি ও সম্পাদক পদে প্রায় ১০০ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আরো কিছু প্রার্থী হয়েছে সিভি দেয়ার মাধ্যমে। মূলত সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই এ ধরণের আয়োজন করা হয়েছে, যা করোনা পরিস্থিতিতে মোটেও ঠিক হয় নি।’

উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মো. নাসির উদ্দিন রানা বলেন, ‘এ আয়োজনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই। বিষয়টি আমার জানাও নেই। ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ার পর বিষয়টি আমি জানতে চেয়েছি।’ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী হতে ১০০ জনের বেশি সিভি জমা দিয়েছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। মূলত করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগকে চাঙ্গা রাখতেই এ ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ‘উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি করার উদ্যোগ নেয়া কিংবা নৌ ভ্রমণের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। এমন সময়ে কমিটি করার উদ্যোগ কিংবা এভাবে নৌকা ভ্রমণে যাওয়া মোটেও ঠিক হয় নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলা কমিটি অথবা কেন্দ্রীয় কমিটি উপজেলা কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখে। কিন্তু নাসিরনগরের একজন জনপ্রতিনিধি এ বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন নিজের মতো করে কিছু একটা করার জন্য, যেটা তিনি পারেন না।’

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!