ব্রেকিং

x

কসবা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দুর্নীতি। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

সোমবার, ০৬ আগস্ট ২০১৮ | ৯:৪৮ অপরাহ্ণ | 2725 বার

কসবা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দুর্নীতি। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

স্বাক্ষী দেয়ার কথা বলে এক বৃদ্ধকে কসবা সাব-রেজিস্ট্রি  অফিসে নিয়ে প্রতারণামূলক ভাবে ভূমি রেজিস্ট্রি করে নেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে কসবা আড়াইবাড়ী গ্রামবাসী। সকাল সাড়ে ১০টায় পৌর এলাকার কদমতলী মোড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে কদমতলী থেকে কসবা থানা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এতে শতাধিক গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করে।
পরে উপজলো নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর মেয়র, সহকারী কমিশনার ভূমি ও কসবা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর গ্রামবাসী স্বারক লিপি প্রদান করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বৃদ্ধ মোসলেম মিয়া, স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবু সাইদ, আলতাফ হোসেন, মোসলেম মিয়ার মেয়ে মুক্তা বেগমসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


এসময় বক্তারা বলেন, কসবা পৌর এলাকার বৃদ্ধ মোসলেম মিয়া থেকে প্রতারণা করে তার বাড়ি দলিল করে নিয়েছে দলিল লিখক আরমান ও শাহীন। তিনি এখন সহায় সম্বলহীন।গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে দোষীদের শাস্তি দাবী করেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন পরিবারের অজান্তে আড়াইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধ মুসলেম মিয়াকে একটি দলিলে স্বাক্ষি দেয়ার জন্য ডেকে আনা হয়। একই গ্রামের দলিল লিখক আরমান খান ও শাহীন মিয়া মুসলেম মিয়াকে ডেকে আনে। রেজিস্ট্রি অফিসে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে একটি দলিলে স্বাক্ষর ও টিপসহি নেয়া হয়। রেজিস্ট্রি অফিস থেকে বাড়িতে আসার পর জানতে পারেন, প্রতারণা করে তার কাছ থেকে বাড়ি লিখে নিয়েছে। পরে গত ৩১ জুলাই কসবা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন মোসলেম মিয়া।

খোজ নিয়ে আরো জানাগেছে, এই জালিয়াতির সাথে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের লোকজনও জড়িত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লিখক জানায়, দলিল রেজিষ্ট্রির সময় জবানবন্দি গ্রহন করা বাধ্যতামূলক হলেও সাব-রেজিস্ট্রার রহস্যজনক কারণে মোসলেম মিয়ার জবানবন্দি গ্রহন করেনি। তবে সাব-রেজিস্ট্রার জবানবন্দি গ্রহন করেছেন বলে দাবী করেন।

খোজ নিয়ে আরো জানাগেছে, আইনমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা কসবা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি চলছে। সাব-কবলা দলিলের ক্ষেত্রে প্রতি দলিলে ১৫০০ টাকা নগদ ঘুষ গ্রহনসহ মুল্যের উপর আরো ২% কমিশন (ঘুষ) দিয়ে দলিল রেজিষ্ট্রি করতে হয় যা  কসবা দলিল লেখক থেকে শুরু করে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা সবাই জানে।

আরো জানাগেছে, সাফ কবলা ও বিভিন্ন দলিলের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পে-অর্ডার ছাড়া বাড়তি মাত্র ৫০০ টাকা সরকারী ফি। কিন্তু কসবায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সাব-রেজিষ্ট্রার বিষয়টি অস্বিকার করে বলেছেন কসবা এসআর অফিসে কোন প্রকার অনিয়ম হয় না।

 

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!