ব্রেকিং

x

কসবায় সামাজিক দূরত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, সাংবাদিক ডেকে‘সাফাই’ গাইলেন অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা

সোমবার, ২৯ জুন ২০২০ | ৩:২১ অপরাহ্ণ | 174 বার

কসবায় সামাজিক দূরত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, সাংবাদিক ডেকে‘সাফাই’ গাইলেন অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু:
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের আড়াই হাজার টাকার তালিকায় রয়েছে নিজের ফোন নম্বর, তালিকায় রয়েছেন খুবই আপনজন, প্রবাসী, সরকারি চাকুরিজীবী- এরপরও সাফাই গাইলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার সেই অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিরা। তবে সোমবার সামাজিক দূরত্বকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে কসবা মহিলা কলেজ অডিটরিয়ামে পাশাপাশি বসে করা সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অভিযোগের স্বপক্ষে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য তাঁরা তুলে ধরতে পারেনি।


সংবাদ সম্মেলনে শুধুমাত্র কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিক লিখিত বক্তব্য দেন। অসুস্থ থাকায় না আসতে পারা খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পক্ষে প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল-মামুন ভূঁইয়া ও কসবা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবু জাহের বক্তব্য রাখেন। আবু জাহের তাঁর বক্তব্যে অভিযোগের প্রমাণ পেলে কাউন্সিলর থেকে পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন, যা রবিবার এই প্রতিবেদককেও বলেন।


প্রসঙ্গত, তালিকা তৈরিতে ওই জনপ্রতিনিধিদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে আখাউড়া নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে কসবায় তোলপাড় শুরু হয়। জেলা প্রশাসকের কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতাও মিলে। সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য ওই জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে এ প্রতিবেদককে অনুরোধও করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনিয়মের কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে ২১ জুন কাউন্সিলর মো. আবু জাহের, ২২ জুন কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, ২৩ জুন খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ খান, ২৪ জুন বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অনুলিপিও দেয়া হয়। অভিযোগ হওয়ার পর সেটি ধামাচাপা দিতে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে নানা ধরণের তৎপরতাও শুরু হয়।

কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিক লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অভিযোগকারিদের সঙ্গে কথা না বলে সংবাদ প্রকাশ করাটা দু:খজনক। তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখা দেন নি। অভিযোগকারিরা এ বিষয়ে অবগত নন বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে এ প্রতিবেদক যোগাযোগ করা হলে কসবার পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিক বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের তালিকা নিয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে শুনেছি। তবে অভিযোগে যে পাঁচজনের স্বাক্ষর রয়েছে তাঁরা ভোটার আইডিতে টিপসই দেন। তাঁরা বলেছে অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানেন না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সানু নামে একজন কাগজে কলমে পৌরসভার বাসিন্দা হলেও ছোট বেলা থেকেই সে পশ্চিম ইউনিয়নে থাকে। এছাড়া আমার যে আত্মীয় স্বজনের কথা বলা হচ্ছে তারা খুব গরীব। যতটুকু সময় পাওয়া গেছে এর মধ্যেই যাচাই-বাঝাই করে তালিকা জমা দেয়া হয়।

খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কবির আহমেদ বলেন, ‘শাহাদাত খানের নামের সঙ্গে যে আমার ফোন নম্বর গেছে সেটা আমি জানি না। সে আমার আত্মীয়, খুব গরীব। কিন্তু আমার নম্বর কেন দিলো বুঝতে পারছি না। তালিকা তৈরি নিয়ে আমার কোনো ধরণের স্বজনপ্রীতি ছিলো না। আমি শুরুতেই তালিকা টানিয়ে দিয়েছি। আমার কারণে সারাদেশে অনেককে তালিকা টানিয়ে দিতে বাধ্য হয়। যদি কোনো মেম্বার তালিকা দিতে গিয়ে স্বজনপ্রীতি করে থাকে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আল-মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘তালিকায় আমার কোনো আত্মীয় স্বজন নেই। মেম্বারদের মাধ্যমে নাম এনে সকলে সিদ্ধান্ত নিয়ে তালিকা দেয়া হয়। এরপর শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই-বাছাই করে। যদি তখন আমাকে জানানো হতো তাহলে বাদ দিয়ে দিতে পারতাম। তবে নজরে আসার পর একজন মেম্বারের স্বামী, আরেকজন মেম্বার ছেলের নাম বাদ দিয়েছি।’

ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবু জাহের বলেন, ‘আমার আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, আপন ভাগিনাসহ একেবারে কাছের স্বজনদের নাম দেয়ার বিষয়টি মিথ্যা। হান্নান নামে আমার ভাই থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নাম রিনা বেগম না। এছাড়া মেয়র যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই তালিকা হয়েছে। ওনিই তালিকায় নাম দিয়েছেন বেশি। আমার কাছ থেকে মাত্র ২০-২৫টি নাম নেয়া হয়েছে। মেয়রের পক্ষের কাউন্সিলদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠায় সেগুলোকে ঢাকতে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমার আপন কেউ তালিকায় থাকাটা প্রমাণ করতে পারলে আমি কাউন্সিলর থেকে পদত্যাগ করবো।’

Facebook Comments

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!