ব্রেকিং

x

ফিরে দেখা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২০২০

করোনার সময়ও পিছু ছাড়েনি সমালোচনা

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০:৩৪ অপরাহ্ণ | 210 বার

করোনার সময়ও পিছু ছাড়েনি সমালোচনা

বিশ্বজিৎ পাল বাবু:
এমনিতেই নানা ঘটনায় আলোচিত সমালোচিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া। করোনাকালীন সময়েও পিছু ছাড়ে নি সমালোচনা। বেশ কিছু ঘটনা সারাদেশেই আলোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। তবে বছরের শেষের দিকে এসে সংঘর্ষ কমলেও চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জেলায় কিছুটা অস্বস্থি বিরাজ করে।


২০২০ সালে আলোচিত ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যেই লাখো মানুষের উপস্থিতিতে বরেণ্য ইসলামী আলোচক মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারীর নামাজে জানাজা। জেলার নবীনগর উপজেলায় সংঘর্ষের সময় মোবারক মিয়া নামে এক ব্যক্তির পা কেটে জয়বাংলা শ্লোগানও সমালোচনার জন্ম দেয়। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই জেলায় অর্ধশতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কসবায় ট্রাক-অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বড়। জেলায় যৌণ হয়রানির মামলার চার্জশিট একদিনেই দেয়ার মতো ঘটনা প্রশংসা কুড়ায়।
বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর জেলায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানায় প্রতিমাসে চারশ’র মতো মামলা হতো। সেটা এখন অনেক কমে গত দুই মাসে তিনশ’র নীচে নেমে এসেছে।’


১৭ এপ্রিল বিকেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা যোবায়ের আহমদ আনসারী মারা গেলে ১৮ এপ্রিল সরাইল উপজেলার জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদরাসা প্রাঙ্গনে তার জানাজায় লাখো লোকের সমাগম হলে সমালোচনা হয়। এ ঘটনায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

করোনাকালে গত ১৩ এপ্রিল এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫০ জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মোবারক হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির পা কেটে জয়বাংলা শ্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে ট্রল করা হয়।
লকডাউনের সময়ে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হয় জেলার সরাইল উপজেলায়। ৩১ মার্চ উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের ভুইশ্বর গ্রামে বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫০ জন আহত হয়। ৮ জুলাই সকালে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিশার গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। গত ২২ জুন সকালে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শোলাবাড়ি গ্রামের দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়। ২৯ এপ্রিল সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিশার গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। গত ১২ এপ্রিল সরাইল উপজেলার আঁখিতারা গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হন। গত ৫ এপ্রিল সরাইল উপজেলার টিঘর, বড়ইছড়া, বিটঘর, নোয়াগাঁও, ধরন্তী ও সৈয়দটুলা গ্রামে সাতটি সংঘর্ষে শতাধিক লোক আহত হন। গত ১৬ মার্চ সরাইল উপজেলার বারইজীবীপাড়া ও সূর্যকান্দি গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৪০ জন আহত হয়। গত ১৩ মার্চ সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৩০ জন আহত ও একজন নিহত হন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গত ৯ ডিসেম্বর এক স্কুল ছাত্রীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় ও উত্যক্ত করার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মো. মাসুদ মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে পরের দিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দায়ের করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। বখাটে মাসুদ মিয়া উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের খাদুরাইল গ্রামের মো কাদির মিয়ার ছেলে। ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে অভিযোগপত্র দেয়ার ঘটনা জেলাতে এটিই প্রথম।

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!