ব্রেকিং

x

উইকেটের মুমিনুলই সংবাদ সম্মেলনে

সোমবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ | 634 বার

উইকেটের মুমিনুলই সংবাদ সম্মেলনে
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ও মুমিনুল

চট্টগ্রামের গৌরব, সৌরভ, সৌরভ।

ppe

ভিভিআইপি গ্যালারির নিচের আসন থেকে তোলা স্লোগানের কোরাস অন্য প্রান্তে প্রেসবক্সের নিচে দাঁড়িয়েও শোনা যাচ্ছিল স্পষ্ট। যাঁর নামে এই স্লোগান, তিনি তখন ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। আজ টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরির বিশাল এক কীর্তি গড়েছেন। কিন্তু ঠোঁটে মৃদু একটা হাসি ছাড়া তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এমনকি পুরস্কার মঞ্চের অদূরে গলা ফাটানো সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়ানোও নেই। কিছুই যেন স্পর্শ করছে না তাঁকে। মুমিনুল হক সাগরিকার অদূরের সাগরের মতোই। শান্ত, প্রায় নিস্তরঙ্গ।


সাগরপাড়ের ছেলের ডাকনাম সৌরভ কে রেখেছে? তার দূরদৃষ্টির তারিফ করতেই হয়। মুমিনুল ঠিক সাগরের মতো উচ্ছল নন। অন্তত বাইরে থেকে। বরং তিনি মিষ্টি সৌরভের মতো। প্রকট উপস্থিতি নেই, কিন্তু আবেশ থেকে যায় অনেকক্ষণ।

অবশ্য কাছের মানুষদের কাছে মুমিনুল নাকি মিচকে বিড়াল। বকর বকর করেন না হয়তো, তবে দুষ্টুমিতে কম যান না। বাইরে থেকে দেখে কি আর সব বোঝা যায়?

হারের শঙ্কার মুখে কাঁপতে থাকা একটা দলের আত্মবিশ্বাস তলানিতে চলে যাওয়া এক ব্যাটসম্যানকে নিয়ে কী লড়াইটাই না করলেন। ১৮০ রানের দুর্দান্ত বললেও কম বলা হয় এমন এক জুটি। জোড়া সেঞ্চুরি, ম্যাচসেরার পুরস্কার, চারদিকে সবার বাহবা, হাততালি…এর মধ্যেও তিনি কেমন আশ্চর্য রকমের শান্ত। সংবাদ সম্মেলনেও যে মুমিনুল দেখা দিলেন, ঠিক এই মানুষটাকেই আজ চাপের মুখে ১০৫ রানের ইনিংস খেলতে দেখা গেছে। একটুও চাপের প্রতিচ্ছবি ছিল না চোখেমুখে, কি শট খেলায়।

অথচ সকালের সেশনে দুই উইকেট হারালেই বাংলাদেশের চূড়ান্ত সর্বনাশ হতো। কীভাবে সামলালেন এই চাপ? চাপের মধ্যে খেললাম কই এমন একটা ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন মুমিনুল, ‘আপনি যদি চিন্তা করেন পুরো দিনটা খেলবেন, তাহলে কিন্তু কঠিন। আপনাকে ঘণ্টা ধরে ধরে, সেশন ধরে ধরে পরিকল্পনা করতে হবে। আমি আর লিটন সেটাই করছিলাম আজ দিনের শুরু থেকে।’

কাল ৮১ রানে দলের তিন সিনিয়র ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর শুরুতে কী বার্তা ছিল দলের? মুমিনুলের উত্তর, দল একবারের জন্যও ভাবেনি এই ম্যাচটা তারা হারতে পারে, ‘এই পরিস্থিতিতে এর আগেও আমরা পড়েছিলাম। এসব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিক দৃঢ়তা। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে, টিম বয়, এমনকি আপনারা যাঁরা সাংবাদিক আছেন, সবাইকে আস্থা রাখতে হবে। পুরো দেশের মানুষ নিশ্চয়ই বিশ্বাস করেছে আমরা পারব। মন থেকে বলছি। সবাই যদি বিশ্বাস করে, তাহলে ফলটা পাওয়া যাবে।’

ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর চোখে ক্ষণিক দৃষ্টি যোগ করে নত স্বরে বললেন, ‘রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি, রিয়াদ ভাইও একই কথা বলেছে। এটা নিয়ে কারও মধ্যে সংশয় যেন না থাকে যে আমরা এই ম্যাচটা বাঁচাতে পারব না। আমরা যেন বিশ্বাস করি পারব। বিশ্বাসটা ছিল সবার ভেতরে।’

চাপের মুখে তিনি আগেও ভালো খেলেছেন। ম্যাচের দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ ইনিংসে তাঁর গড় অনেক ভালো। কী রহস্য এর? রহস্য-টহস্য কিছু নেই। সরল দর্শন হলো, সবকিছু এত জটিল করে না ভাবা। চাপের মধ্যে খেলছি কি না, আমি আউট হয়ে গেলে দল হারবে কি না, ক্যারিয়ার চাপের মধ্যে আছে কি না; এমনকি অমুককে আমার পাল্টা জবাব দিতে হবে কি না…এর কোনোটাই তিনি ভাবেন না। আর মুমিনুলের এ কথাটা অবিশ্বাস করতেও ইচ্ছে হলো না।

তিনি বরং সেই মানুষ, যিনি স্ট্যান্স নেন, নিজের করণীয় জানেন। বোলারের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে ধেয়ে আসা বলটা বোঝেন। আর সে অনুযায়ী শট খেলেন।

তাই বলে আবার ভাববেন না, তাঁর মধ্যে আবেগ-টাবেগ নেই। নিজের দুঃসময় পেছনে ফেলে আসার প্রথম সফল অভিযান শেষে মনে করলেন তাঁদের, যাঁরা দুঃসময়ে পাশে থাকে সব সময়। গ্যালারির চট্টগ্রামের (আসলে পুরো বাংলাদেশের) গৌরব স্লোগান তোলাদের তিনি আড়চোখে দেখেন ঠিকই। এ কারণে সংবাদ সম্মেলন শেষে সাজঘরে ফিরতি পথে বলে গেলেন, ‌‘আমার সেঞ্চুরি দুটো দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।’

Facebook Comments

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com