ব্রেকিং

x

ঈদের দিন পেটভরে মাংস পোলাও সেমাই খেয়ে প্রতিবন্ধী পথশিশুর মুখে হাসি

সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ৭:২০ অপরাহ্ণ | 527 বার

ঈদের দিন পেটভরে মাংস পোলাও সেমাই খেয়ে প্রতিবন্ধী পথশিশুর মুখে হাসি

১৪ বছর বয়সী পথশিশু সাগর হোসেন পেশায় ভিক্ষুক। ৫ বছর আগে চলন্ত বাসের নিচে চাপা পড়ে দুইটি পা ও বাম হাতটি শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এক বছর আগে স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া ছোট ভাইয়ের সহযোগীতায় ডান হাতটি ব্যবহার করে আখাউড়া রেলস্টেশনে চলছে তার জীবন যুদ্ধ। ভিক্ষা করে যে টাকা পেত তা দিয়ে সহযোগী ছোট ভাইকে নিয়ে ডাল ভাত খেয়ে খুশিতেই ছিল সাগর কিন্তু কয়েক মাস ধরে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে রেলস্টেশনে মানুষ না থাকায় অল্প ডাল ভাত খেয়ে কোনক্রমে জীবন চলছে।


আজ সোমবার ঈদের দিন দুপুরে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনার দেয়া রান্না করা সেমাই, মাংস, পোলাও আর ডিম পেয়ে পেটভরে খেয়েছেন। অনেক দিন পরে মাংস পোলাও খেয়েছেন তারা। কতদিন আগে মাংস পোলাও খেয়েছেন তা মনে নেই।


আরও পড়ুন: আখাউড়ায় ভিক্ষুক ও পথশিশুকে ঈদের উন্নতমানের খাবার দিলেন ইউএনও রেইনা

আখাউড়া রেলস্টেশন এলাকায় ফুটপাতে কথা হয় সাগর হোসেন ও তার সহযোগী ১২ বছর বয়সী পথশিশু মনিরের সাথে। নরসিংদীহ রেলস্টেশনের বস্তিতে থাকে সাগরের বাবা-মা। ৯ বছর বয়সে বাসের নিচে চাপা পড়ে সাগরের দুই পা ও বাম হাত কেটে শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। মৃত্যুর মুখ থেকে বেচে ফিরলেও পঙ্গুত্ববরণ করেছে।ডান হাতটি ব্যবহার করেই তার জীবন চলছিল।

গত তিন বছর আগে  জীবিকার তাগিদে নরসিংদীহ থেকে সাগর চলে আসেন আখাউড়া রেলস্টেশনে। আখাউড়া রেল মসজিদের সামনে বসে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে। এই অবস্থায় গত এক বছর আগে বাড়ি থেকে রাগ করে আখাউড়া রেলস্টেশনে চলে আসে মনির। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই দেখে মনিরকে সাগর আশ্রয় দেয়। তার সহযোগী হিসাবে নিজের কাছেই রেখে দিয়েছে তাকে। তার চলাফেরাসহ বিভিন্ন কাজের সহযোগী হিসাবে থাকলেও তাকে সাগর নিজের ছোট ভাইয়ের মতই দেখে। কাপড় চোপড় থেকে শুরু করে যখন যা চাই সাধ্যমত দেয়ার চেষ্টা করে। প্রতিদিন ভিক্ষা করে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পেত। অন্য খরচাদিসহ ডালভাত খেয়ে বেশ আনন্দেই চলতে পারতো দুইজন। কিন্তু মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লেই তাদের রোজগারে ভাটা পড়ে যায়। সারাদিন ভিক্ষা করে ১০০ টাকা আয় করতেও কষ্ট হয়। কোনক্রমে খেয়ে না খেয়ে দু্ইজনের জীবন চলছিল। অনেক দিন রাতে না খেয়েই স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঘুমিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: আখাউড়ায় ভোটার কার্ড না থাকলেও সরকারী ত্রাণ পাবেন গরিব দুস্থ মানুষরা-ইউএনও রেইনা

সাগর আরো বলেন, আজ সোমবার ঈদের দিন সকালে দুইজন শুকনো দুইটি রুটি খেয়েছিল। দুপুরে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা রান্না করা গরম খাবার নিয়ে আসে তাদের জন্য। তাদের মত অনেক অসহায় ভিক্ষুক মানুষের হাতে তিনি আজ  খাবার তুলে দিয়েছেন। দুপুরে উনার দেয়া রান্না করা সেমাই, পোলাও, মুরগির মাংস ও ডিম পেয়ে দুইজনে পেট ভরে  খেয়েছে। অনেক দিন পরে মাংস পোলাও খেয়েছে তারা। আগে কখন মাংস পোলাও খেয়েছে তা মনেও নেই। পেটভরে মাংস পোলাও খেতে দেয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সাগর।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা আক্রান্তদের সাথে ঈদের খাবার ভাগাভাগি করলেন জেলা প্রশাসক

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!