ব্রেকিং

x

আখাউড়া-কসবায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ৪ জনের নাম

শুক্রবার, ০৯ মার্চ ২০১৮ | ২:০৯ পূর্বাহ্ণ | 2785 বার

আখাউড়া-কসবায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ৪ জনের নাম
বাম থেকে মুশফিকুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন হাজারী ও শাকিল ওয়াহেদ সুমন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া ও কসবা) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় ৪ জনের নাম উঠে আসছে। গ্রেফতার আতঙ্ক ও কিছু নেতাকর্মীর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিএনপির রাজনৈতিক উত্তাপ না থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা আর সমালোচনা থেমে নেই।


আখাউড়া ও কসবা বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানাগেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সাবেক এমপি বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মুশফিকুর রহমান, আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি ইঞ্চিনিয়ার মুসলিম উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ সুমন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য নাছির উদ্দিন হাজারীকে নিয়ে মোট ৪জন সম্ভাব্য প্রার্থী।


সরেজমিন খোজ নেয়ার সময় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ভোগছে বিএনপি। অনেক দিন যাবত সাবেক এমপি মুশফিকুর রহমান দেশে না থাকায় বিএনপিতে অচল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ড হওয়ার পরও মুশফিকুর রহমান বিদেশ থেকে ফিরে না আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অপরদিকে পুলিশের ভয়ে অনেক নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অনেকে নিজের নিরাপত্তার জন্য দলত্যাগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকছে তবে আখাউড়া পৌরসভা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা দলের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিছু নেতাকর্মী বলছে এই মাসেই মুশফিকুর রহমান দেশে ফিরছেন। তিনি আসলেই বিএনপির রাজনৈতিক মাঠ চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু নেতাকর্মী বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা সাবেক এমপি মুশফিকুর রহমান খালেদা জিয়ার কারাদন্ড হওয়ার পরও দেশে ফিরে না আসায়  তিনি বিএনপিতে বিতর্কিত অবস্থানে চলে গেছেন। আগামী নির্বাচনে তার মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী তাই বিকল্প প্রার্থীদের নিয়ে ভাবতে হবে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন বলেছেন, এই মাসে মুশফিকুর রহমান দেশে আসছেন, তিনি আসলে কসবা-আখাউড়ায় বিএনপি চাঙ্গা হয়ে উঠবে।  ক্ষমতাশীন প্রার্থীর সাথে লড়তে গেলে কসবা-আখাউড়ায় মুশফিকুর রহমানের বিকল্প নেই।

এদিকে বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতংকে ভোগছে, দলীয় কর্মসূচী করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ছে তাই দলের সুবিধা ভোগী কিছু নেতাকর্মী নিজেদের নিরাপদ রাখতে বিএনপি ছাড়ছে। তিনি আরো বলেছেন, বিএনপির প্রতিকুল পরিস্থিতি ও বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডের পরও দেশে না আসায় মুশফিকুর রহমান বিতর্কিত  হয়েগেছেন। এবার কসবা-আখাউড়া আসনে বিএনপির নতুন প্রার্থী দেখা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মুশফিকুর রহমান মনোনয়ন না পেলে কে হতে পারে যোগ্য প্রার্থী তা নিয়েও বিএনপিতে আলোচনা সমালোচনা চলছে। খোজ নেয়ার সময় কিছু নেতাকর্মী বলেছেন, মুশফিকুর রহমানের পর আখাউড়া-কসবার জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিন। তিনি শত প্রতিকুলতার মধ্যেও গত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির রাজনীতিতে একজন ভালো মানুষ হিসাবে তার পরিচিতি রয়েছে। অপর দিকে নাছির উদ্দিন হাজারী ২০০৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে কোটি ব্যায় করেও তৃতীয় স্থান লাভ করে। তারা আরো বলেন নাছির উদ্দিন হাজারী যাদের নিয়ে ঘুরছেন তাদের কারো বিএনপিতে পদ নেই। বিভিন্ন সময় অন্যান্য দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানকারী কিছু লোক তার সঙ্গে রয়েছে। নাছির উদ্দিন হাজারীর লোকরা হয়রানীর মুখেও পড়ছে না। ক্ষমতাশীনরা নাছির উদ্দিনকে বিএনপির দুই নম্বর গ্রুপের নেতা হিসাবেই জানে।

এদিকে বিএনপির কিছু কর্মীসমর্থক বলছে নাছির উদ্দিন হাজারী অনেক দিন ধরে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এলাকায় তার পোষ্টার, ফেষ্টুন রয়েছে। বিএনপির মাঠকে একমাত্র নাছির উদ্দিন হাজারী চাঙ্গা করে রেখেছে কিন্তু মুশফিকুর রহমান অনেক দিন ধরে বিদেশে তার ফেমিলির সদস্যদের সাথে অবস্থান করছেন। হাজারীর লোকজনের বিএনপিতে পদ না থাকলেও দলীয় কর্মসূচীতে সক্রিয় আছেন কিন্তু পদে থাকা কোন রাজনৈতিক নেতা মাঠে সক্রিয় নয়।

এ ব্যপারে আখাউড়া উপজেলা যুবদল নেতা আক্তার হোসেন বলেছেন, মুশফিকুর রহমান মনোনয়ন না পেলে জনপ্রিয়তার বিবেচনায় ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিনকে টপকে নাছির উদ্দিন হাজারীর মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব নয়। জনপ্রিয়তা ও ভালো মানুষের পরিচিতি দিয়ে সবার আগে আমলে আসবে আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দিন।

এ ব্যাপারে নাছির উদ্দিন হাজারী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডের পরও মুশফিকুর রহমান দেশে ফিরেনি। বিগত তিন বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে নেই তিনি। বিগত ৫ বছর ধরে কসবা-আখাউড়ার রাজনৈতিক মাঠে নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি কাজ করছি, এলাকার মানুষ সব জানে ও দেখছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা অবগত তাই আগামী নির্বাচনে আমার মনোনয়ন নিশ্চিত।

এদিকে আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি মুসলিম উদ্দিন বলেছেন,আমি নির্বাচন নিয়ে এই মুর্হুতে কিছু ভাবছি না। আমি ভাবছি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে। আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ চেয়ে বসে আছি। তিনি আরো বলেছেন পুলিশের বিভিন্ন বাধার মুখে বিএনপি কর্মসূচী পালন করতে পারছে না। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির মূলস্রোতের বাইরে যারা অবস্থান করছে তারা বিএনপির অপ্রচার করছে মাত্র। নাছির উদ্দিন হাজারী ও তার সহযোগীরা কেউ বিএনপির কমিটিতে নেই।  তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন দল যদি আমাকে স্বেচ্ছায় আমার যোগ্যতা মূল্যায়ন করে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবো। দল চেয়েছিল বলেই সকল প্রতিকুলতার মাঝে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলাম আমি এবং জয়ী হয়ে ফিরেছি নির্বাচনের মাঠ থেকে।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ সুমনও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে এলাকায় যোগযোগ রাখছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার সম্পর্কে বলেছেন, শাকিল ওয়াহেদ সুমন ঢাকামুখী মানুষ। নির্বাচনের সময় হলে তাকে খোজে পাওয়া যায়। কিছু নেতাকর্মী বলেছেন, অভিজাত ফেমিলির সদস্য এই সুমন। বিএনপি থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে রাজধানীতেও মনোনয়ন ফরম নিয়েছিল সুমন। তবে বেগম খালেদা জিয়ার নিকটতম লোক হওয়ায় তারও সম্ভাবনা রয়েছে। সবাইকে পেছনে ফেলে সুমনও মনোনয়ন পেয়ে যেতে পারে বলে অনেকে বলেছেন।

নিরপেক্ষ কিছু সমর্থক বলেছেন, দল যাকে মনোনয়ন দিবে তাকে বেছে নিবেন তারা। আগামী নির্বাচনের আগে দলকে চাঙ্গার করার মত যোগ্য একজন নেতার প্রয়োজন বলেও বিএনপির অনেকে মন্তব্য করেছেন।

 

আখাউড়ানিউজ.কমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও চিত্র, কপিরাইট আইন অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!